সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অটোমোবাইল বাজারে এবার বিপ্লব ঘটাল চিনের গাড়ি নির্মাতা সংস্থা জিলি অটো (Geely Auto)। তাদের নতুন i-HEV ইন্টেলিজেন্ট হাইব্রিড সিস্টেম সম্বলিত গাড়িগুলি এবার সাধারণ হাইব্রিড গাড়ির ধারণাকেই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। কোম্পানির দাবি, এই প্রযুক্তির গাড়িগুলো প্রতি লিটার পেট্রোলে নাকি প্রায় 45 কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারবে (Geely Auto AI Car)। ভাবা যায়! আর এই সাফল্য জাপানি কোম্পানিগুলির বিশেষ করে টয়োটার কয়েক দশকের একচেটিয়া বাজারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
রেকর্ড ভাঙা মাইলেজ
উল্লেখ্য, জিলির এই নতুন হাইব্রিড সিস্টেমটি তাদের Emgrand মডেলে পরীক্ষা করা হয়েছে। আর সেখানে দেখা গিয়েছে যে, মাত্র 2.22 লিটার জ্বালানি খরচ করে গাড়িটি 100 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ, 1 লিটার পেট্রোলে গাড়িটি মাইলেজ দিচ্ছে 45 কিলোমিটার। জিলির তরফে জানানো হয়েছে, তাদের এই অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব ইতিমধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে।
দিল্লি থেকে মুম্বাই মাত্র 3000 টাকায়!
বড় ব্যাপার, ভারতের বর্তমান পেট্রোল মূল্যের দিক থেকে বিচার করলে এই প্রযুক্তির প্রভাব বিশাল। কারণ, এই মাইলেজ অনুযায়ী দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ের মতো দীর্ঘ পথ অর্থাৎ প্রায় 1400 কিলোমিটার পাড়ি দিতে জ্বালানি খরচ পড়বে আনুমানিক 3000 টাকার আশেপাশে। আর সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এই সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হতে পারে একেবারে গেম চেঞ্জার। এমনকি এতে শুধু জাপানি সংস্থা নয়, বরং মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই এর মতো কোম্পানিগুলো পড়তে পারে চাপে।
প্রসঙ্গত, জিলির ‘i-HEV’ সিস্টেমটি শুধুমাত্র মাইলেজের দিক থেকেই সেরা নয়, বরং এটি প্রযুক্তির দিক থেকেও উন্নত। এর ভেতরে রয়েছে একটি এআই ভিত্তিক এনার্জি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এই সিস্টেমটি রিয়েল টাইমে বাতাসের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে আর্দ্রতা এবং উচ্চতা বিশ্লেষণ করে ইঞ্জিনের শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। যার কারণে যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গাড়িটি সেরা পারফরমেন্স এবং মাইলেজ দেয়। এছাড়াও এতে এমন কম্পিউটিং পাওয়ার রয়েছে যা উন্নত ড্রাইভিং ফিচার বা ADAS কেও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ছত্তিশগড়ে পাহাড়ে ভেঙে পড়ল বেসরকারি বিমান, নিহত পাইলট-কো-পাইলট, বহু প্রাণহানীর আশঙ্কা
জিলির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, 2026 সালের মধ্যেই এই নতুন প্রযুক্তি Preface, Monjaro, Starray এবং Emgrand এর মতো একাধিক মডেলে লঞ্চ করা হবে। এমনকি কোম্পানির মূল টার্গেট উন্নত এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। এখন দেখার, এই প্রযুক্তি সামনে আসলে ভারতের সংস্থাগুলি ঠিক কতটা প্রভাবিত হয়।










