সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আর হাতেগোনা তিনটে দিন। আগামী ২৩ তারিখ বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়, এবং ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে প্রচারের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যে মদ্যপানে লাগাম টেনে ফেলল নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেল থেকেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলিতে ‘ড্রাই ডে’ শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েকদিন সুরাপান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ বাংলায় এবং কাউন্টারের ঝাঁপও থাকবে বন্ধ (Dry Day in Bengal)।
কবে কবে বন্ধ থাকছে কারবার?
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভোটগ্রহণ এবং গণনার দিনগুলোতে ধাপে ধাপে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে। প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার যে নির্বাচন রয়েছে, সেই অনুযায়ী ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বন্ধ হচ্ছে মদের কাউন্টার। অর্থাৎ, ২০ এপ্রিল সোমবার বিকেল থেকেই প্রথম দফার নির্বাচনী এলাকাগুলিতে মদের দোকান ও বার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
ওদিকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল বুধবারও একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে কোনও ধরনের অ্যালকোহল বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। অন্যদিকে ৪ মে সোমবার ফল ঘোষণা। আর এই দিন গোটা রাজ্যে সম্পূর্ণ ‘ড্রাই ডে’ হিসেবে পালিত হবে। গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকটি মদের কাউন্টার বন্ধ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।
হোটেল এবং ক্লাবেও কড়া নজরদারি
বলাবাহুল্য, কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র মদের দোকান নয়, বরং কোনও হোটেল, রেস্তোরাঁ বা ক্লাবেও এই সময় মদ পরিবেশন করা যাবে না। এমনকি ব্যক্তিগত ব্যবহারের নাম করে বিপুল পরিমাণ মদ মজুদ করে রাখলেও আইনি পদক্ষেপ নেবে আফগারি দফতর। আর বেআইনিভাবে মদ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুই জাহাজে ফের হামলা চালাতে পারে ইরান! হরমুজে ঘেরাটোপ বাড়াল ভারতীয় নৌবাহিনী
এদিকে কমিশনের নির্দেশিকায় ৪৮ ঘণ্টা আগে দোকান বন্ধ করতে বলার কারণে সোমবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় কাউন্টার বন্ধ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, যেখানে ভোট নেই বা যেখানে ভোট আরও পরে, সেই সমস্ত এলাকাগুলিতে পুলিশ আগাম দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। এ নিয়ে আবগারি মহলে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্যই কড়া পদক্ষেপ। এমনকি যদি নিয়ম ভেঙে কোনও কাউন্টার বা বার খোলা হয়, তাহলে সেই সংস্থার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।










