সহেলি মিত্র, কলকাতা: ভারতে কবে লঞ্চ হবে ইলন মাস্কের Starlink? কবে আরও উন্নত ও হাইস্পিড ইন্টারনেট (High Speed Internet) পরিষেবা মিলবে? এই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। এমনিতেই যত সময় এগোচ্ছে ততই ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের জন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে, ইলন মাস্কের কোম্পানি স্টারলিঙ্ক ভারতে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আরও একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কোম্পানিটি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জেন ২ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের জন্য ভারতীয় মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর কাছে পুনরায় আবেদন করেছে। এই পরিষেবা শুরু হলে ভারতের গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে হাইস্পিড ইন্টারনেট।
Starlink নিয়ে বড় ঘোষণা ইলন মাস্কের
জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কে ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস (D2D) কানেক্টিভিটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদন পেলে, এটি ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনকে সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত করার সুযোগ করে দিতে পারে। রিপোর্ট অনুসারে, স্টারলিঙ্ক প্রায় ৩০,০০০ স্যাটেলাইট সমন্বিত একটি জেন ২ নেটওয়ার্কের আবেদনের জন্য পুনরায় অনুমোদন পেয়েছে। এই স্যাটেলাইটগুলিকে প্রায় ৩৪০ থেকে ৬১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় নিম্ন ভূ-কক্ষপথে অর্থাৎ low Earth orbit- এ স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংস্থাটি এর আগে ভারতে জেন ১ এবং জেন ২ উভয় নেটওয়ার্কের জন্যই আবেদন করেছিল। তবে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইন-স্পেস (IN-SPACe) শুধুমাত্র জেন ১ নেটওয়ার্কের অনুমোদন দেয়। এই নেটওয়ার্কটিতে ৪,৪০৮টি এলইও (LEO) স্যাটেলাইট রয়েছে এবং এটি প্রচলিত স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের জন্য পরিকল্পিত।
কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং স্পেকট্রাম ব্যান্ড-সম্পর্কিত নিয়মকানুনের কারণে স্টারলিংকের আগের জেন ২ আবেদনটি অনুমোদন পায়নি। এখন, সংস্থাটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুনরায় আবেদন করেছে। এবারের আবেদনে ডি২ডি-র মতো প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতে বর্তমানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং ডি২ডি পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে স্মার্টফোন
এই পুরো বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস (D2D) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইস সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। যদিও মোবাইল ফোন সাধারণত টাওয়ারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়, D2D প্রযুক্তি ফোন এবং স্যাটেলাইটের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। এটি এমন সব এলাকায় সংযোগ প্রদানে সহায়তা করতে পারে, যেখানে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, যেমন প্রত্যন্ত গ্রামে।
ভারতে স্টারলিঙ্ককে বেশ কয়েকটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রিলায়েন্স জিও ইতোমধ্যে প্রায় ১,৬০০টি LEO স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্কের প্রস্তাব দিয়েছে। ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং অ্যামাজন LEO-ও ভারতীয় স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। SpaceX-এর সামগ্রিক জেন ২ পরিকল্পনায় প্রায় ৪২,০০০ স্যাটেলাইটের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে, ভারতে প্রায় ৩০,০০০ স্যাটেলাইটের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোম্পানিটি অতিরিক্ত স্যাটেলাইটের জন্য আবেদন করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভারতকে ঘেরার ছক, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের মক্কা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশও!
ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করার আগে স্টারলিঙ্ককে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দ। স্যাটেলাইট স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ট্রাই (TRAI) ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, কিন্তু সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। ডি২ডি (D2D) পরিষেবার জন্য নিয়মকানুন নিয়েও আলোচনা চলছে।










