সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এবার বড় পদক্ষেপ সরকারের। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস আমলে যা হয়নি, এবার তা করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেই সূত্রে শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র উত্তরবঙ্গ হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেকের সুরক্ষা বাড়াতে ১৮৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে বড় প্রকল্পের উদ্বোধন
সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। আগের সরকার যেখানে কাঁটাতার দিতে বিলম্ব করেছিল, সেখানে নতুন সরকার এসে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তের যে সমস্ত অঞ্চলে কাঁটাতার নেই, সেখানে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি বরাদ্দ করে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। এমনকি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে বিশেষ ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড তৈরি করা হয়েছে। কিশানগঞ্জ, চোপড়া এবং ধুবরি, এই তিনটি ঘাঁটি থেকে নিয়মিত নজরদারি এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে।
এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোটা দিয়ে অমিত শাহ জানান, “সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ২০১৪ সাল থেকে ১১২৯ একর জমি চাওয়া হলে এতদিন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। হাতে পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। জমি বরাদ্দ করা হয়নি।”
আরও পড়ুন: ২০ তারিখের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢুকলে কী করতে হবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে বর্তমান সরকারকে প্রশংসা করে অমিত শাহ জানান, “শিলিগুড়ি করিডরকে শক্তিশালী করার জন্য মোট ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর হয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অনুরোধ সত্বেও জমি মেলেনি। এদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ এবং এসএসবির কাছে ১১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। পাশাপাশি প্রাতরাশের আলোচনার সময় বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও তিনি তৎক্ষণাৎ দিয়েছেন। এসএসবির অনুষ্ঠানে আমরা বারবার মমতাদিদিকে আমন্ত্রণ জানাতাম। তবে উনি আসতে চাইতেন না। আমরা শুভেন্দুকে ডাকা মাত্রই উনি এসেছেন।”










