সহেলি মিত্র, কলকাতা: দেশজুড়ে এখন বর্ষার (Monsoon) দাপট চলছে। প্রবল বৃষ্টিতে বানভাসি হয়ে গিয়েছে একের পর এক রাজ্য। বাদ যাচ্ছে না বাংলাও। আবহাওয়া দফতরের শেষ আপডেট অনুযায়ী, দেশের এখন সর্বত্র বর্ষা ঢুকে পড়েছে। সর্বত্রই রয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা। তবে এরপরেও কিন্তু আবহাওয়া নিয়ে খুব একটা ভালো খবর শোনাতে পারলেন না আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। অনেকে জানাচ্ছেন, এখনো অবধি নাকি ভারতের ৭০ থেকে ৮০% জায়গায় বর্ষা রীতিমতো ‘নিখোঁজ’। এদিকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দুর্গাপুজোর সময়ে বৃষ্টি হবে?
ভারতে এখনো ‘নিখোঁজ’ বর্ষা!
এমনিতেও বাঙালির প্ৰিয় দুর্গাপুজো আসতে খুব বেশি দেরি নেই। ঢাকে কাঠি পড়ল বলে। এই বর্ষাতেও কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বৃষ্টির মধ্যেই চলছেন কাজ। এবারে অক্টবর মাসে দুর্গাপুজো। ফলে বৃষ্টি হবে না বলে ধরেই নিয়েছিলেন। তবে আবহাওয়ার মতিগতি খুব একটা ভালো না হওয়ায় এখনই এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ অংশে মৌসুমী বায়ুর কার্যকলাপ হ্রাস পেয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ভারতের প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ডে মৌসুমী মেঘ অনুপস্থিত।
রাজস্থান, দিল্লি-এনসিআর, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, কেরালা এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলিতে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর এই সাময়িক বিরতির ফলে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে তাপমাত্রা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর।
তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত রাজস্থান
বর্ষার ধীরগতির প্রভাব তাপমাত্রায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এই সময়েও রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে পারদ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এই দুটি রাজ্যে ভূমিধসের কারণে যান চলাচলের জন্য প্রায় ৪৪০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য ব্যাপক অসুবিধার কারণ হয়েছে। শনিবার গভীর সন্ধ্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি এলাকায় একটানা বৃষ্টির প্রভাব সমতলভূমিতেও অনুভূত হচ্ছে। প্রয়াগরাজ ও ঋষিকেশে গঙ্গা নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ঋষিকেশের ত্রিবেণী ঘাটে গঙ্গার জল সিঁড়ি পর্যন্ত পৌঁছে নদীর ভয়ংকর রূপ প্রকাশ করেছে। এদিকে, বিহারের পাটনায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বর্ষার এই বিরতি একটি স্বাভাবিক ও সাময়িক ঘটনা। বঙ্গোপসাগরে নতুন কোনো আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় হলেই বর্ষাকাল আবার শুরু হতে পারে।










