১০৫ বছর বয়সে জেলমুক্তি! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মকুব মালদার রসিকচন্দ্রের সাজা

Published:

Rasik Chandra Mondal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবাক কাণ্ড, দীর্ঘদিন ধরে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করার পর অবশেষে ১০৫ বছরে মুক্তির স্বাদ পেলেন মালদহের (Malda) বাসিন্দা রসিকচন্দ্র মণ্ডল (Rasik Chandra Mondal)। যা পশ্চিমবঙ্গের জেল-ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড। জানা গিয়েছে, খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করে আসছিলেন তিনি, অবশেষে গত শুক্রবার শীর্ষ আদালত এই অভিযুক্ত বৃদ্ধের সাজা মকুব করে (Supreme Court) এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাঁকে আর জেলে ফিরতে হবে না। অর্থাৎ বাকি জীবনটা স্বাধীন ভাবেই কাটাতে পারবেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল?

১৯৮৮ সালে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ছিল মালদহের বাসিন্দা রসিকচন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে তিনি জামিনের জন্য আবেদন করলে সেটি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রসিকচন্দ্র। কিন্তু সেখানেও কোনো কাজ হয়নি, শীর্ষ আদালতও আবেদন বাতিল করে। শেষে ২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে ফের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিলেন রসিকচন্দ্র মণ্ডল।

সাজা মকুব করল সুপ্রিম কোর্ট

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দী রসিকচন্দ্রের শরীর ভেঙে গিয়েছিল, এমনকি কমেছিল দৃষ্টিশক্তি। সেই কারণে ২০২১ সালের মে মাসে এই আবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে জবাব চায় সুপ্রিম কোর্ট। সবশেষে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়। তারপরেই জেলের বাইরে ছিলেন ওই বৃদ্ধ। ফের গত শুক্রবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সঙ্গে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে।

আরও পড়ুন: স্ত্রী, সন্তান সহ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারের ৪ জনকে খুন! বাংলাদেশে ফের হিন্দু হত্যা

মামলা নিষ্পত্তির কারণস্বরূপ আদালত জানায়, রসিকচন্দ্রের বয়স বিবেচনা করে তাঁর যাবজ্জীবন সাজার বাকি সময়টুকু আর ভোগ করতে হবে না। অর্থাৎ জীবনের প্রায় শেষ কিনারায় দাঁড়িয়ে মুক্তির স্বাদ পেলেন এই অভিযুক্ত বৃদ্ধ। তবে দীর্ঘায়ু নিয়ে রীতিমত অবাক আদালতের বিচারপতিরা। অবাক ভঙ্গিতে সকলের প্রশ্ন ১০০ বছরের বেশি বয়সেও তিনি কীভাবে বেঁচে রয়েছেন এবং নিজের মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারছেন। তবে যাই হোক জীবনের বাকি দিনগুলি এবার নিজের ইচ্ছেমতো কাটানোর সুযোগ পেলেন এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি বৃদ্ধ।

আরও Malda Supreme Court