ট্রেন অবরোধে ২ বছরের জেল, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রেল ও রাজ্য সরকারের

Published:

Train Blockade

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতিবাদের নামে যখন তখন ট্রেন অবরোধ (Train Blockade) আর নয়! ধরা পড়লেই আন্দোলনকারীদের হবে ২ বছরের জেল, সঙ্গে থাকবে জরিমানা। বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য (Government Of West Bengal) এবং রেল (Indian Railways)। ক্ষমতার রদবদল হতেই এবং বাংলায় প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে প্রশাসন। আর এবার নজরে আসল ট্রেন পরিষেবা।

আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে একদিকে যেমন রেলমন্ত্রী রাজ্যে রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছিলেন অন্যদিকে প্রতিবাদের নামে ক্ষণে ক্ষণে যে রেল অবরোধের মুখে পড়ছে সেই সমস্যা সমাধান নিয়েও বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন! আগেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই অনুযায়ী রেল অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে চলেছে।

হবে ২ বছর পর্যন্ত জেল

সূত্রের খবর, ভারতীয় রেল আইনের (১৯৮৯) ১৭৪ ধারা অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা এক দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনকি রেলের নিয়মে এও বলা হয়েছে যে, প্রতিবাদের সময় রেললাইনে বসে থাকা, প্রয়োজনীয় সিগনালিং সরঞ্জামের ক্ষতি করা এবং হোস পাইপ নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে অবরোধকারীদের ২ বছর পর্যন্ত জেল হয়ে পারে। তবে এখানেই শাস্তি শেষ হচ্ছে না। তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ২ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হতে পারে। আর সেই আইন এবার যাতে কড়াকড়ি ভাবে চালু হয় সেই ব্যবস্থাই করতে চলেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: নবদ্বীপ থেকে পুরী, মথুরার স্পেশাল ট্রেন! রথের আগে বিশাল বন্দোবস্ত রেলের

প্রসঙ্গত, একটি রেল অবরোধ অনেক মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ রেল কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রেন চলাচল ব্যাহত করার মতো আন্দোলনের ফলে শুধু রেল পরিষেবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বহু সাধারণ যাত্রীর স্বপ্ন, সুযোগ এবং জরুরি প্রয়োজনও মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর সেটি যাতে ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারী করতে না পারে তারই ব্যবস্থা করা হতে চলেছে।