সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার হয়েছে হামিদ মন্ডল (Hamid Mondal)। সঙ্গে তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শুধু কি টাকার লোভেই হামিদের সঙ্গে কার্যকলাপ এই অর্পিতার? আসলে না, দীঘায় গিয়ে লুকিয়ে বাগদান সেরে ফেলেছিল তারা। তারপরেই রাজ্যজুড়ে এহেন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল। এমনকি দীর্ঘদিন ধরেই তারা ঘনিষ্ঠ ছিল এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, এমনটাও খবর।
কী সম্পর্ক হামিদ এবং অর্পিতার?
হামিদের সঙ্গে পাকিস্তান জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকার হামিদকে সর্বত্রভাবে সহায়তা করত সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকতে। এমনকি দেশের একাধিক মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ছিল হামিদ মন্ডল এবং তাঁর সহযোগীদের। আর সেক্ষেত্রে ধৃত অর্পিতা তথ্য সংগ্রহের কাজ করত। সবথেকে বড় বিষয়, তারা একসঙ্গে এরকম সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দীঘায় গিয়ে বাগদান সেরে ফেলেছিলেন। জানা গিয়েছে, গত বছর হামিদ এবং অর্পিতা দীঘায় ঘুরতে গিয়েছিল। আর সেখানেই তারা আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জইশ ই মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিল এই হামিদ। এমনকি ওই সংগঠনে তিনি ফুয়েগো নামে পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের মদতে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুবকদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ করত এই অভিযুক্ত। তবে জানা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই অর্পিতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তারপর থেকে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এমনকি অর্পিতা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে সেখানকার ছবি তুলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে হামিদকে পাঠাত। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বেশ কয়েকটি ফেক অ্যাকাউন্ট ছিল।
আরও পড়ুন: এইদিন থেকে শুরু হচ্ছে যুবশক্তির আবেদন, রেডি রাখুন এই ডকুমেন্ট
এদিকে অর্পিতার পরিচয় তল্লাশি করতে গিয়ে জানতে পারা যায়, তারা দুই বোন। তার দিদির ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে তাঁর মা সামান্য একজন আইসিডিএস কর্মী। তবে অর্পিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিল, এবং হামিদের সঙ্গে যখন তাঁর পরিচয় হয় তখন হামিদ নিজেকে হাওড়ার একজন ব্যবসায়ী বলেই জানিয়েছিল। এবার ঝাড়খন্ড থেকে মুর্শিদাবাদে এসে হামিদের সঙ্গে একজোট হয় অর্পিতা। তারপর থেকেই তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক। এমনকি জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে অর্পিতার মগজধোলাই করা হত বলেই খবর। তবে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে তা তদন্ত করছে পুলিশ। এমনকি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ জঙ্গি দমন সংগঠন খোলা হবে বলেও জানানো হয়েছে।










