প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বড় উদ্যোগ সরকারের, রাজ্যের সব জেলা হাসপাতালে এবার চালু হতে চলেছে ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাব পরিষেবা (24 Hour Lab Service)। শুধু তাই নয়, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হাসপাতালগুলিতে (Government Hospitals) ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং এবং SMS পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে পরীক্ষা করানোর পর রিপোর্টের জন্য আর রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না, এমনকি বারবার হাসপাতালেও ছুটতে হবে না।
ল্যাবরেটরি-পরিষেবা নিয়ে বাড়ছিল বিতর্ক
ক্ষমতার রদবদল হতেই রাজ্যের শিক্ষা, পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তর প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, এতদিন জেলা হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো ও কর্মী থাকলেও ল্যাবরেটরি-পরিষেবা ছিল সীমিত। অর্থাৎ জেলা হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং কর্মী থাকা সত্ত্বেও ল্যাবরেটরি পরিষেবার ক্ষেত্রে দেখা নানা ঘাটতি ছিল। কোথাও হয়তো পরীক্ষার সংখ্যা কম থাকত আবার কোথাও রিপোর্ট হাতে পেতেও বেশি সময় লাগত। শুধু তাই নয়, অনলাইন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রেও ছিল অসামঞ্জস্য। কিন্তু এবার সবটাই পরিবর্তন হতে চলেছে।
এবার ২৪ ঘণ্টার ল্যাব হবে সব জেলায়
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সবকটি সরকারি জেলা হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাব পরিষেবা চালু থাকবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ম্যানুয়াল রিপোর্ট বন্ধ করে ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং এবং SMS-পরিষেবা চালু করতে হবে। যাতে রোগী তাঁর নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে সেই ইউনিটের অনলাইন রিপোর্ট সরাসরি চলে যায়। এছাড়াও ল্যাব রিপোর্ট প্রকাশ করার আগে টেকনিক্যাল প্রসেসিং, সেকশন ভেরিফিকেশন এবং ল্যাব স্পেশালিস্টের ভ্যালিডেশন-তিন স্তরের যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্য অধিকর্তার তরফে ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ডস এবং ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ফ্রি ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ল্যাব পরিষেবার আধুনিকীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ৯ মাস পরই জামাইকে কোপানোর চেষ্টা! ফালাকাটায় চাঞ্চল্য, ৫ জনের বিরুদ্ধে FIR
অন্যদিকে রোগীদের ব্যাকটিরিয়া এবং হিস্টোপ্যাথলজির মতো আরও উন্নত পরীক্ষাও চালুর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘সিঙ্গল সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি’ এবং ‘সিঙ্গল প্রিক পলিসি’ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে, প্যাথলজি, ইন্টিগ্রেটেড কাউন্সেলিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো উইংয়ে কর্মরত সকল টেকনিশিয়ান এবার থেকে সুপারিটেন্ডেন্টের একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞর নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। এখন দেখার এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়।










