বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান এবং আমেরিকার মধ্যেকার সংঘাত ধাক্কা দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যে (Iran War)। সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে তাতে পকেট পুড়ছে আমজনতার। এই নিয়ে দেশে পরপর দুবার বাড়ল পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। জ্বালানি তেলের জন্য বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীল ভারতে ভবিষ্যতে যে জ্বালানি সংকট দেখা দেবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে? ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি যেভাবে মোড় নিচ্ছে তাতে আগামীতে জ্বালানির জন্য হায়ুতাস করতে হতে পারে ভারতের মতো বহুদেশকে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে, আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলা। শিরোনামে উত্তর 24 পরগনার ছোট্ট শহর অশোকনগর (Ashoknagar oil Field)।
গোটা দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আশার আলো দেখাচ্ছে অশোকনগর
বহু আগেই অশোকনগরে মিলেছিল ভূগর্ভস্থ জ্বালানি তেলের সন্ধান। তাতেই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেন দেশবাসী। অশোকনগরের তেলক্ষেত্রে আগেই প্রাথমিকভাবে ড্রিলিং এর কাজ শুরু করে দিয়েছিল ONGC। তবে পূর্বতন সরকারের আমলে ভূগর্ভস্থ অংশের ড্রিল করার ক্ষেত্রে নানানভাবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাতে চেষ্টা করেও স্বাভাবিক ছন্দে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়নি কাজ। তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই আরও একবার জ্বালানি তেল নিয়ে আশা যোগাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের এই শহর।
অশোকনগরের তেল ক্ষেত্রটিকে পূর্ব ভারতের প্রথম অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, ওই অংশের মাটির নিচে কম করে 240 মিলিয়ন বা 24 কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোরিত তেল মজুদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অশোকনগরের ওই অংশে যত পরিমাণ তেল রয়েছে তা যদি উত্তোলন করা যায় তাতে একদিক থেকে যেমন দেশের জ্বালানির ঘাটতি মিটবে তেমনই অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে যাবে বাংলার এই ছোট্ট শহর। সেই সাথে তৈরি হবে কর্মসংস্থানও
অবশ্যই পড়ুন: উস্কানিমূলক পোস্টে বিপাকে পরমব্রত! তড়িঘড়ি ছুটলেন হাইকোর্টে
অশোকনগরের তেল ক্ষেত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে বৈঠক শমীকের
গত শনিবার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পরিকাঠামোগত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সাথে বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই অশোকনগরের ওই তেলক্ষেত্রের কথা স্মরণ করিয়ে শহরের ওই অংশ থেকে যত দ্রুত সম্ভব তেল উত্তোলনের উপর জোর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন শমীক। প্রত্যুত্তরে অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা করতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই লক্ষ্যেই তাঁর দেখানো পথে হেঁটে বাংলার জন্য কোন কোন পদক্ষেপ নিতে হয় সেটা জানেন মন্ত্রী। সেই মতোই পরপর কাজ হবে।










