প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বৃদ্ধির জট যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। চলতি বছর অন্তর্বর্তী বাজেটেই ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি নবান্ন (Nabanna)। এনিয়ে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে DA নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলল নবান্ন।
এখনো জারি হয়নি বিজ্ঞপ্তি!
কিছুদিন আগে, অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। যার ফলে সেই অনুযায়ী এই DA বৃদ্ধি কার্যকর হলে রাজ্যের কর্মীরা মোট ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। কিন্তু সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি করেনি নবান্ন। এনিয়ে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এর আগেও বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে। প্রতিবারই যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে এবং সেই ডিএ পাওয়া গিয়েছে। তাহলে এবছর এখনো বিজ্ঞপ্তি জারি হল না কেন? এবার সেই নিয়ে আসল কারণ তুলে ধরল নবান্ন। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি এখনও না মেলায় বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে না।
নেপথ্যে কারণ কী?
মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন। ওই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে মে মাসের বেতনের সঙ্গে পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। নবান্নের দাবি, কর্মচারীদের বর্ধিত হারে ডিএ প্রদান চালু করতে রাজ্যের তরফে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিককে। অর্থাৎ, ভোটের মাঝে ডিএ বাড়ানোর নোটিশে কমিশনের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে। কিন্তু অভিযোগ, কমিশনের সেই ছাড়পত্র এখনও পাওয়া যায়নি, তাই ১ এপ্রিল থেকে নয়া হারে ডিএ কার্যকরের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
গড়িমসির অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে
সিইও দপ্তরের একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, নবান্নের চিঠি পাওয়ার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এই বিষয়ে চিঠি লিখে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পাঠিয়েছে। তবে এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সরকারী কর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কর্মচারী আধিকারিকদের একটা অংশ মনে করছে, বাজেটে ঘোষিত বিষয়ে নতুন করে কমিশনের অনুমতি চাওয়া আসলে একটি ‘অতিসক্রিয় সিদ্ধান্ত’। অন্যদিকে আবার ছাড়পত্র না-দেওয়ায় তাঁরা কমিশনের বিরুদ্ধে গড়িমসিরও অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। দাবি করা হচ্ছে হয়ত বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ডিএ বিজ্ঞপ্তি জারির অনুমোদন দিতে দেরি করছে কমিশন।
আরও পড়ুন: বাতিল ৮৪০ কোটির তিস্তার দ্বিতীয় সেতুর টেন্ডার, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
উল্লেখ্য, নিবার্চনের মুখে একদিকে যখন সরকারি কর্মীদের DA বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ঠিক সেই সময়ই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের অধীন বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদেরও দ্রুত এই বকেয়া মেটানোর চেষ্টা চলছে। তাই এখন নজর নবান্নের বিজ্ঞপ্তির দিকে— সেখানেই মিলবে ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত চূড়ান্ত উত্তর।










