প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, ‘মোবিলিটি সিটি’ (Mobility City) প্রকল্পে এবার দেশে ১০১টি শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে চলেছে। আর সেই তালিকায় উঠে এসেছে রাজ্যের (West Bengal) পাঁচ শহর। রয়েছে কলকাতারও (Kolkata) নাম, ইতিমধ্যেই প্রকল্প নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে বিশদ পরিকল্পনা।
‘মোবিলিটি সিটি’ প্রকল্প রাজ্যের ৫ শহর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসাধারণের কাছে দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করে তুলতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। আর এই প্রকল্পের অধীনে সমগ্র ভারতবর্ষে মোট ১০১টি শহরকে ‘মোবিলিটি সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের যে পাঁচটি শহরকে ‘মোবিলিটি সিটি’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল— কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়ি। ইতিমধ্যেই এই শহরগুলিতে উন্নত মানের ও আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালনা করা সম্ভব, তা নিয়ে পরিকল্পনা ও কাজ শুরু হয়ে গেছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
সূত্রের খবর, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই কলকাতার এজি বেঙ্গল অফিসে ‘মোবিলিটি সিটি’ প্রকল্প নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্তরের IAS আধিকারিক। কেন্দ্রীয় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক এই পরিকল্পনা রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে। মূলত, একাধিক যানবাহনের জেরে রাস্তাঘাটে যানজট লেগেই রয়েছে। তাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যানজট মুক্ত করতে এবং ফুটপাথ সাধারণ মানুষের কাছে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে কলকাতা শহর অন্যতম।
‘পার্ক অ্যান্ড রাইড’ ব্যবস্থা রাজ্যে?
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের কথায়, “দেশের অন্য যে কোনও বড় শহরে যেখানে ৩৫ থেকে ৪২ শতাংশে বড় রাস্তা রয়েছে, সেখানে কলকাতায় যান চলাচলের রাস্তার পরিমাণ মাত্র পাঁচ থেকে সাত শতাংশ। তাই মোবিলিটি শহর গড়তে গেলে রাস্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে প্রশাসনকে।” উল্লেখ্য, পরিবেশবিদদের মতে কলকাতার মতো যানজটপূর্ণ শহরে ছোট গাড়ি না কমলে গণপরিবহণকে বাঁচানো এবং শহরকে দূষণমুক্ত করা অসম্ভব। তাই সেইদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জনবহুল শহরে ‘পার্ক অ্যান্ড রাইড’ ব্যবস্থা চালু করা নিয়েও চলছে আলোচনা। পাশাপাশি ব্যবহার করা হতে পারে ট্রাফিক ক্যামেরাগুলিকে।
আরও পড়ুন: ‘নো ভেহিকেল জোন, চলবে শুধু ট্রাম আর সাইকেল’ কলেজ স্ট্রিট নিয়ে বড় ঘোষণা
‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’-এর সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, “পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের এই ১০১টি শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় যাতে একটি অভিন্নতা বা ‘ইউনিফর্মিটি’ বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই মোবিলিটি সিটি তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে যানজট ও দূষণমুক্ত শহরের প্রস্তাবনা বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলির গণপরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও খসড়া জমা দেওয়া হয়েছে।।” প্রশাসনের তরফে আশা রাখছে যে, পরিবহণ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে এই ‘মোবিলিটি সিটি’ প্রকল্প আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।










