‘নো ভেহিকেল জোন, চলবে শুধু ট্রাম আর সাইকেল’ কলেজ স্ট্রিট নিয়ে বড় ঘোষণা

Published:

Agnimitra Paul

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রশাসনের নজরে এবার এল বইপাড়া। জানা গিয়েছে, লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজতে চলেছে কলেজ স্ট্রিট (College Street)। এমনই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। এমনকি বই পড়ার জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে গোটা চত্বর নো ভেহিকেল জোন হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে প্রশাসন। অর্থাৎ এলাকায় চলবে না কোনও গাড়ি। তবে যাতায়াতের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চালানো হবে শুধু ট্রাম, সাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত গাড়ি।

‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট

পুর এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কলেজ স্ট্রিটকে লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সাজানো হবে। একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার অংশে সাধারণ কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ এই এলাকাকে নো ভেহিকেল জোন করতে চাইছে প্রশাসন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, “কিছুটা দূরে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে, যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়াও বয়স্ক মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। এবং শহরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলেজ স্ট্রিটে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হবে ট্রাম। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বইপাড়ার ফুটপাত ও রাস্তা সেজে উঠবে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে।

কী বলছেন মন্ত্রী?

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নয়া কলেজস্ট্রিটের পরিকাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, “পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট, বসার বেঞ্চ থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে পারে। এছাড়াও চারপাশের বইয়ের দোকানগুলোকে একই রকম থিমে সাজানো হবে। একেবারে পুরোনো দিনের কলকাতাকে নতুন রূপে রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরব। এবং আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে ফের বইমুখী করব।” তবে শুধু কলেজস্ট্রিট নয়, আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারেও এই অভিনব ও মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এমনই জানিয়েছেন সেখানকার বিধায়ক।

আরও পড়ুন: ছেলের দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তেই মৃত্যু হল এই ফুটবল কোচের বাবার

প্রসঙ্গত, বর্তমান প্রজন্ম ক্রমশই চার দেওয়ালের মোবাইল স্ক্রিনে নিজেদেরকে আটকে রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক আকর্ষণ এবং চমকে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বয়স্ক থেকে খুদে সকলেই। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই হয়ে উঠেছে প্রশাসনের লক্ষ্য। তাই মন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ঘোষণায় স্বভাবতই খুশি দুই শহরের বইপ্রেমী মানুষ।