দুর্গাপুরে গণধর্ষণ! বান্ধবীর বিশ্বাসঘাতকতার শিকার ১৪ বছরের নাবালিকা

Published:

Durgapur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বান্ধবীর ডাকে সাড়া দিতেই ঘটল ভয়ংকর বিপদ। যৌন লালসার শিকার হলেন বছর ১৪-র নাবালিকা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে (Durgapur)। অভিযোগ, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে তিন যুবকের হাতে তুলে দেয় তারই এক বান্ধবী। শেষে মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করিয়ে তাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ (Rape Case) করে ওই তিন যুবক। বর্তমানে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শনিবার, দুর্গাপুরের বুদবুদ থানা এলাকার বাসিন্দা এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে তাঁর বান্ধবী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তখনই নাকি ওই নাবালিকাকে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন-সহ তিন যুবকের হাতে তুলে দেয় সেই বান্ধবী। গাড়ির ভিতরে ওই যুবকেরা জোর করে আকণ্ঠ মদ্যপান করায় নাবালিকাকে। এখানেই শেষ নয়, এরপর গাড়ি করেই সিটি সেন্টার এলাকায় অবস্থিত পার্ক সুটস নামের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় নাবালিকাকে। অভিযোগ সেখানে ঘর ভাড়া করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ওই নাবালিকাকে তিন যুবক গণধর্ষণ করে। বর্তমানে দুর্গাপুরের মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা।

চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পরিবারের

নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার সময় হোটেলে ছিলেন নির্যাতিতার বান্ধবী সিমরান তামাং। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তরা নাবালিকাকে ওই রাতে সাড়ে দশটা নাগাদ বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বাড়ি ফিরে আসলে নির্যাতিতা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তখনই পরিবারের সবাইকে সবকিছু জানায়। নির্যাতিতার বাবা বলেন, “ সিমরান তামাং নামে ওই তরুণী আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায়। তারপর মদ্যপান করায়। মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ায় মেয়ে বেহুঁশ হয়ে যায়। তারপর তিন যুবক ওকে হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানেই গণধর্ষণ করা হয়।”

আরও পড়ুন: বিনামূল্যের যাত্রায় পড়া ভিড় মহিলাদের, চাপ কমাতে এই ১৪ রুটে বাড়ল বাসের সংখ্যা

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতেই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হোটেলের রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর, গতকাল রবিবার, সকালে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড: প্রণব কুমার বলেন, “ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত সিমরান তামাং। তদন্ত চলছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।” অন্যদিকে বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”