অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্মের ১৩টি পাতা কীভাবে পূরণ করবেন? রইল A টু Z প্রসেস

Published:

Annapurna Bhandar Form Fill Up

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) অফিসিয়াল ফর্ম প্রকাশ করেছে রাজ্যের রাজ্য সরকার। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, সেই ফর্মটি রাখা হয়েছে ১৩ পাতার। এমনকি সেখানে উপভোক্তা তথ্য থেকে শুরু করে পরিবারের সমস্ত সদস্যের ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত, পেশাগত সব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এখানেই সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ। কীভাবে পূরণ করবেন এই ফর্ম, সেই পদ্ধতি এ টু জেড জানাবো এই প্রতিবেদনে (Annapurna Bhandar Form Fill Up)।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের পদ্ধতি | Annapurna Bhandar Form Fill Up |

প্রথম পাতা

প্রথম পাতায় আগে পরিবারের প্রধানের নাম লিখতে হবে। তবে সেটি অবশ্যই আধার কার্ড অনুযায়ী হতে হবে। তারপর নিজের জন্ম তারিখ লিখতে হবে। তারপর পরিবারের প্রধানের লিঙ্গ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর পরিবারের প্রধানের আধার নম্বর আর ডিজিটাল রেশন কার্ডের আইডি লিখতে হবে। এরপর নিজের ঠিকানা আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট বক্সে বসাতে হবে। এরপর যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর বসাতে হবে। এরপর পরিবারের প্রধানের সঙ্গে বাদবাকি সকল সদস্যের কী সম্পর্ক রয়েছে তা বসাতে হবে। সেক্ষেত্রে নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, আধার নম্বর ইত্যাদি দিতে হবে।

দ্বিতীয় পাতা

দ্বিতীয় পাতাতেও একইভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানের সম্পর্কের তথ্য ইনপুট করতে হবে। তারপর ১০ নম্বর অপশনে রয়েছে পরিবারের প্রধান আর পরিবারের সকল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস। এক্ষেত্রে পরিবারে যে কজন সদস্য রয়েছে এবং যাদের যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাদের সমস্ত তথ্য ইনপুট করতে হবে। প্রথমে সদস্যের নাম লিখতে হবে। তারপর তাঁর ব্যাংকের নাম লিখতে হবে। তারপর অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোড দিতে হবে, এবং তাতে অবশ্যই ডিবিটি লিংক থাকতে হবে।

তৃতীয় পাতা

তৃতীয় পাতার ১১ নম্বর অপশনে রয়েছে এপিক নম্বর, অর্থাৎ এখানে পরিবারের সকল সদস্যদের ভোটার কার্ডের নম্বর দিতে হবে। আর এটা অবশ্যই ভোটার লিস্ট অনুযায়ী বিধানসভার ক্ষেত্র, অংশ নম্বর সহ ইনপুট করতে হবে। এবার কোন ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন সেটিকে সিলেক্ট করতে হবে। তবে অবশ্যই এসসি, এসটি বা ওবিসি হয়ে থাকলে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া দরকার। এরপর রেশন কার্ডের তথ্যে প্রথমেই রয়েছে আপনার ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে কিনা। সেখানে সঠিক অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তারপর কোন কার্ড রয়েছে তা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর প্রতি মাসে রেশন তুলছেন কিনা সেটিও সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ‘সম্পদ’ সেকশনে আপনার বাড়িতে তিন বা তার বেশি পাকা ঘর রয়েছে কিনা তা সিলেক্ট করতে হবে। আর পরিবারের নিজস্ব জমির মালিকানা রয়েছে কিনা সেটিও সিলেক্ট করতে হবে।

চতুর্থ পাতা

এই পাতায় ৩ নম্বর পয়েন্টে রয়েছে পরিবারের সকল সদস্যদের মোট জমির পরিমাণ। এক্ষেত্রে অবশ্যই শতকে সেই পরিমাণ লিখতে হবে। ৪ নম্বরে যানবাহন রয়েছে কিনা। যদি চার চাকার যানবাহন থাকে তাহলে হ্যাঁ লিখবেন। নাহলে না। তবে গাড়ি থাকলে অবশ্যই তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ৫ নম্বরে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য বীমা। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সদস্যদের আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য বীমার তথ্য ইনপুট করতে হবে। এরপর ‘আয় বা পেশা’-র সেকশনে গিয়ে কেউ আয়কর প্রদান করে কিনা তা ইনপুট করতে হবে। এরপর ২ নম্বর অপশনে রয়েছে প্যান কার্ডের তথ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে আয়কর প্রদান না করলে শুধুমাত্র ‘না’ অপশন সিলেক্ট করে দিলেই হবে। আর হ্যাঁ হলে ‘হ্যাঁ’ অপশনটি সিলেক্ট করে প্রত্যেকের প্যান নম্বর বসাতে হবে।

পঞ্চম পাতা

এই পেজে আপনার কর্মসংস্থানের ধরন বসাতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবারের প্রধান থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সদস্যদের তথ্য ইনপুট করতে হবে। সে কোন খাতে চাকরি করে, সরকারি, বেসরকারি, সংগঠিত ক্ষেত্রে কিংবা পরিযায়ী শ্রমিক বা বেকার, তা সঠিক তথ্য অবশ্যই ইনপুট করতে হবে।

ষষ্ঠ পাতা

ষষ্ঠ পাতাতেও পরিবারের সদস্যদের কাজের ধরন ইনপুট করতে হবে। ৪ নম্বর অপশনে রয়েছে পরিবারের শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের সংখ্যা আর পরিবারের অশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের সংখ্যা। এখানে সঠিক নম্বর ইনপুট করে কার কত অবধি শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে তা ইনপুট করে দিলেই হবে।

সপ্তম পাতা

সপ্তম পাতার ৫ নম্বরে রয়েছে কোনও সদস্য সাংবিধানিক পদ, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক বা অন্য কোনও ব্যক্তির ধারক কিনা। সেক্ষেত্রে সঠিক অপশন সিলেক্ট করে নিলেই হবে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ লিখলে যিনি এই পদে রয়েছেন তাঁর সদস্য নম্বর লিখতে হবে। ৬ নম্বরে আছে কোনও সদস্য সরকারি পেনশনভোগী কিনা। সেটি সঠিকভাবে ইনপুট করতে হবে। তারপর কোনও সদস্য জিএসটির আওতায় নিবন্ধিত রয়েছেন কিনা। সেটিও ইনপুট করতে হবে। এরপর ৮ নম্বরে পরিবারের বার্ষিক আয় লিখতে হবে টাকার অংকে। তারপর সিএএ-তে যদি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে বর্তমান অবস্থা ইনপুট করতে হবে। সেখানে আবেদন করে থাকলে আবেদনের নম্বর ইনপুট করতে হবে প্রত্যেকটি সদস্যের।

অষ্টম পাতা

এই পাতার ২ নম্বর অপশনে রয়েছে কোনও কিষান কার্ড, কিষান ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে প্রত্যেকটি কার্ডের নম্বর, আইডি সংখ্যা ইনপুট করতে হবে। এমনকি পরিবারের প্রধান থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যদের সমস্ত তথ্য ইনপুট করতে হবে এখানে। তারপর ৩ নম্বর অপশনে রয়েছে এসআইআর ২০২৬-এ বাদ পড়ে থাকলে আর মামলা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকলে সঠিক অপশন সিলেক্ট করতে হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে প্রত্যেকটি সদস্যদের জন্য মামলার বিবরণ উল্লেখ করতে হবে।

নবম পাতা

এই পাতায় পরিবারের শিশু সদস্যদের বিবরণ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন শিশু কোন বিদ্যালয় পড়ে, কোন ক্লাসে পড়ে এবং স্কুলটি সরকারি, বেসরকারি, মাদ্রাসা বা অন্যান্য কিনা তা ইনপুট করতে হবে। একের বেশি শিশু থাকলে প্রত্যেকটা শিশুর জন্য আলাদা আলাদা করে তথ্য ইনপুট করতে হবে।

দশম পাতা

এখানে প্রথমে শিশুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইনপুট করার তথ্য রয়েছে। তারপর টিকাকরণের বর্তমান অবস্থা চাওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্র যদি টিকাকরণ হয়ে থাকে, তাহলে ‘হ্যাঁ’ আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে ‘না’ তে টিক মার্ক করে দিতে হবে। তারপর আপনি কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ডিবিটি-র মাধ্যমে নিচ্ছেন কিনা সেটি সিলেক্ট করতে হবে। এমনকি পরিবারের প্রধান থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যরা যদি নিয়ে থাকে, তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেকটি তথ্য ইনপুট করতে হবে।

আরও পড়ুন: ৪৫ মিনিটের সফর ৫ মিনিটে, মুড়িগঙ্গার উপর জোরকদমে চলছে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণ

একাদশ থেকে ত্রয়োদশ পাতা

একাদশ পাতার প্রথমে এই স্কিমগুলির তথ্য ইনপুট করতে হবে প্রত্যেকটি সদস্যদের। দ্বাদশ পাতাতেও স্কিমগুলির তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে ২ নম্বর অপশনটি পূরণ করতে হবে। তারপর ‘আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে উপরে দেওয়া তথ্য আমার জ্ঞান এবং বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য’ এই অপশনটিতে সম্মত সিলেক্ট করে নিজের সই করেই ফর্ম জমা দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন, ১৩ নম্বর পাতায় নিজের কোনও তথ্য ইনপুট করা যাবে না। এটা শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরা ব্যবহার করবেন।

Annapurna Bhandar Official Form: Download Now