সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ নিয়েও জীবনের কঠিনতম পরীক্ষায় বিরাট সাফল্য অর্জন। স্কুল জীবনের শেষ বড় পরীক্ষা উচ্চমাধ্যমিকে (HS Result 2026) নিজের কৃতিত্ব রাখল কর্কট-বিজয়িনী অদ্রিজা গণ (Adrija Gan)। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর এই মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই। তা তুচ্ছ করে ৪৮৭ নম্বর পেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করল এই মেধাবী ছাত্রী।
লড়াই শুরু ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই
আসলে অদ্রিজা যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ত, তখন তাঁর শরীরে ধরা পরে টি-সেল লিম্ফমা নামের এক ভয়াবহ ক্যান্সার। টানা চার বছর ধরে চলে যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। এমনকি পরপর ৮২টি কেমোথেরাপির ধাক্কা সামলাতে হয়েছে তাঁকে। তবে শারীরিক কষ্ট কখনও তাঁর জেদকে কমাতে পারেনি। রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের ছাত্রী অদ্রিজা কলা বিভাগ থেকেই পরীক্ষা দিয়েছিল। সেখানে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। মেধা তালিকার দশম স্থান অধিকার করেছে এই ছাত্রী। তাঁর পছন্দের বিষয়ে তালিকায় রয়েছে ভূগোল, অর্থনীতি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং মনোবিদ্যা।
এদিকে এর আগেও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় সে নবম স্থান অধিকার করেছিল। আর এবার নম্বরের শতাংশ বাড়লেও সামান্য পিছিয়ে মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে সে। জীবনের লড়াই থেকেই ভবিষ্যতের পথ বেছে নিয়েছে অদ্রিজা। সে বুঝতে পেরেছে যে, শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক লড়াই অনেকটাই কঠিন। তাই বড় হয়ে সে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি নিয়ে পড়তে চায়। কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এমনকি ভবিষ্যতে দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগী সে।
আরও পড়ুন: সত্যিই কি আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? জানতে তথ্য চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া
অদ্রিজার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর মা জ্যোতি গণ। পেশায় একজন শিক্ষিকা জ্যোতি দেবী। একাই মেয়েকে মুম্বাই নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ চিকিৎসা করিয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে অদ্রিজার বাবা জয়মঙ্গল গণ পেশায় একজন শিক্ষক। অসুস্থতার সময় স্কুলের মাতাজি এবং শিক্ষিকারা যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তা স্বীকার করেছে অদ্রিজা। ২০২১ সালে পুরোপুরি ভাবে রোগমুক্ত হয় সে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রতিবছর তাঁকে মুম্বাই গিয়ে রুটিন চেকআপ করাতে হয়।










