‘প্লিজ প্লিজ স্যার…শেষ অনুরোধ’, হাইকোর্টে বিচারপতির কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা মমতার

Published:

Mamata Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসায় জ্বলছে বাংলা। আদালতে নালিশ করতে গিয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নতুন সরকার গড়তেই একের পর এক বিল্ডিং বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে নিস্তার দেওয়া হচ্ছে না। বেআইনি দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি বাচ্চাদেরকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়। সেখানেই উপস্থিত থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোট পরবর্তী হিংসায় মামলা দায়ের

উল্লেখ্য, আজ এই মামলার সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের পাশে একগুচ্ছ কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মমতা, এবং তিনিও বিচারপতির কাছে সওয়াল করেন। শুরুতেই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন বলেন, যেখানে সেখানে ভাঙচুর চলছে। এগুলি মেনে নেওয়া যায় না। হাইকোর্টের এই সংক্রান্ত অর্ডার ফলো করতে হবে। অন্যদিকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের পার্টি অফিসে আক্রমণ চলছে। সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। তাদের মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দরকার। ডোমজুড়ে ব্লক প্রেসিডেন্ট আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি খেজুরিতে ৬০টি দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কল্যাণের সংযোজন, আগের থেকে বেশি ভোট পরবর্তী সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রশাসন কোনও রকম নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ভোট পরবর্তী পর্যায়ে ১০ জন ইতিমধ্যে খুন হয়েছে। এমনকি ১৫০ থেকে ১৬০টি পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরছাড়া। প্রকাশ্যে মহিলাদের উপর আক্রমণ চলছে। হক মার্কেটে বুলডোজার দিয়ে বিল্ডিং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় ছাড়া কোনও বুলডোজার অপারেশন চলতে পারে না। আপাতত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের কথা উল্লেখ করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন কল্যাণ।

সওয়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এদিকে এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে বুলডোজার চালানো যাবে না। সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। আমি ১৯৮৫ সালে বারের এনরোলে করেছি। বাচ্চাদেরকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। মেয়ে, সংখ্যালঘু কাউকে ছাড়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ১০ জন মারা গিয়েছে। আমরা এখন সেটা আলোচনা করতে চাইছি না। পুলিশকে নির্দেশ দিন। তাঁরা এফআইআর নিচ্ছে না। এমনকি আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে আতঙ্কে মানুষ অফিসে পর্যন্ত যেতে পারছে না। বাড়ি ছাড়া হচ্ছে সকলে।

আরও পড়ুন: অর্ধেক রাজ্য সরকারি কর্মীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ, জারি বিজ্ঞপ্তি

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন যে, আমরা বিধানসভার ক্ষেত্র অনুযায়ী সব জায়গায় ভাঙচুর উল্লেখ করেছি। আর কী করার আছে? সব তথ্যই দেওয়া রয়েছে। পুলিশ কি তাহলে ঘুমাচ্ছে? একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করুন। এই ঘটনার যেন তদন্ত হয়। এদিকে শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির কাছে হাতজোড় করে বলেন যে, প্লিজ প্লিজ স্যার। প্লিজ ফর দ্য পিপল। প্রটেক্ট দ্য পিপল। আমার একটাই শেষ বক্তব্য, রাজ্যের মানুষকে যাতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।