প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে প্রথমবার সরকার গঠন করা মাত্রই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এমতাবস্থায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code) নিয়ে। এদিকে বাংলায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন ও দপ্তর বণ্টনের পরে রাজ্য সরকার সেই প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
নির্বাচনী প্রচারের সময় গত এপ্রিলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যে সরকার গড়ার ছয় মাসের মধ্যেই বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর করা হবে। আর এবার বাংলার মসনদে বিজেপির ক্ষমতা পেতেই আলোচনার শিরোনামে উঠল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার প্রসঙ্গ। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির ঘোষিত অবস্থান। অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ওই আইন চালু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও অদূর ভবিষ্যতে তা হবে। কিন্তু কবে হবে, তা রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে।”
UCC চালু নিয়ে সরব বিজেপি
বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘ দিনের দাবি, দেশে UCC বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা এক দেশ এক আইন চালু করা, যাতে মুসলিমদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্যে UCC চালু হয়েছে। এই বিধির সপক্ষে বেশ কয়েক বার সরবও হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় এবং উত্তরপ্রদেশে কী ভাবে ওই আইন প্রয়োগ করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা রদের পরে গোটা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পক্ষপাতী গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের কর্মী সঙ্কট মেটাতে বড় পদক্ষেপ! নিয়োগ হবে ৬৫০০ কর্মী, বড় ঘোষণা দিলীপের
প্রসঙ্গত, পাঁচ রাজ্যে ভোট-পর্ব মেটার পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বিজেপি। আগামী মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দল ভাল ফল করায় রাজ্যের একাধিক সাংসদ কেন্দ্রে মন্ত্রী হতে পারেন ভেবে আশাবাদী রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। মহারাষ্ট্র ও বিহারের একাধিক শরিক দলের সাংসদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভূতপূর্ব ফলের পরে রাজ্য থেকে এক বা একাধিক সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জানা হচ্ছে। কারা মন্ত্রী হতে পারেন, রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।










