লন্ডনের টেমসের আদলে গঙ্গাপাড়ে অর্থনৈতিক হাব, হকারদের জন্য বিরাট উদ্যোগ পুরমন্ত্রীর

Published:

kolkata-makeover

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শহর ও নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) একের পর এক নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে কলকাতা (Kolkata)-সহ বিভিন্ন শহরের চেহারা বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে শহরের সৌন্দর্যায়ন, বহুতল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা তাঁর তরফে জানানো হয়েছে। এবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ন’টি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা সামনে আনল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)।

কী কী পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য?

এই ন’টি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকছে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (NBCC)। গত ৩ নভেম্বর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে সংস্থাটির সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে কলেজ স্ট্রিটের উন্নয়ন, ট্যাংরার চায়না টাউনের পুনর্গঠন, চন্দননগরে রিভারফ্রন্ট, বিধাননগরে সরকারি আবাসন সংস্কার, আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ, হকারদের জন্য পরিকল্পিত বাজার, কলকাতার বস্তি পুনরুন্নয়ন, গঙ্গার দুই পাড়ের উন্নয়ন এবং নবদ্বীপের নদীর ঘাটের সৌন্দর্যায়ন।

এক নজরে ন’টি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা:

১. কলেজ স্ট্রিটের আধুনিকীকরণ: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বইপাড়ার নিজস্ব পরিচিতি ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

২. ট্যাংরার চায়না টাউনের উন্নয়ন: এলাকার চীনা সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের নকশায় নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে এই অঞ্চল।

৩. চন্দননগরে রিভারফ্রন্ট: হুগলি নদীর তীরবর্তী এলাকাকে সাজিয়ে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৪. বিধাননগরে সরকারি আবাসন সংস্কার: সরকারি আধিকারিকদের পুরনো আবাসনগুলির পরিকাঠামো সংস্কার করে সেগুলিকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. আধুনিক গণশৌচাগার: রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের গণশৌচাগার তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

৬. হকারদের জন্য পরিকল্পিত বাজার: কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরে ব্যাঙ্ককের আদলে হকার জোন তৈরির ভাবনা রয়েছে। ফুটপাত দখল না করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফুড স্ট্রিট, ফুড কোর্ট, অস্থায়ী বাজার ও খাবারের গাড়ির ব্যবস্থা করা হতে পারে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ভাড়া ও অর্থপ্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে।

৭. বস্তি এলাকার পুনরুন্নয়ন: মুম্বইয়ের ধারাভি মডেলের আদলে কলকাতার বস্তি এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসন তৈরির পাশাপাশি বহুতল নির্মাণের ভাবনাও রয়েছে।

৮. গঙ্গার দুই পাড়ের উন্নয়ন: মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যবর্তী গঙ্গার দুই পাড় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় চার লেনের রাস্তা, হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, হোটেল ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত গঙ্গার নীচ দিয়ে মেট্রো চালানোর বিষয়টিও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

৯. নবদ্বীপের নদীর ঘাটের উন্নয়ন: নবদ্বীপের নদীর ঘাটগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পর্যটন ও তীর্থযাত্রীদের জন্য পরিকাঠামো আরও উন্নত হতে পারে।

আরও পড়ুন: অসুস্থতায় ভুগছেন প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, অবস্থা আশঙ্কাজনক জানালেন কুণাল ঘোষ

শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্কিং ও নাগরিক পরিষেবার আধুনিকীকরণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের কথা জানাচ্ছে বিজেপি সরকার। তারই সঙ্গে এই ন’টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও আশপাশের শহরগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নতি হতে পারে। বস্তিবাসীদের স্থায়ী আবাসন, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবসার জায়গা এবং গঙ্গার পাড়ে উন্নত পরিকাঠামো তৈরি হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে শহরের ঐতিহ্য বজায় রেখেই কলকাতাকে আরও আধুনিক ও বাসযোগ্য করে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।

google button