সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বেতন বাড়লেও খুশি নন আশাকর্মীরা (Asha Workers)। অতিরিক্ত কাজের চাপে নাজেহাল অবস্থা তাদের। সেই কারণেই এবার বিক্ষোভে নামল আরামবাগের (Arambagh) আশাকর্মী সংগঠন। এমনকি বিডিও অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দিয়ে এসেছেন তারা। তাদের একটাই দাবি, বেতন শুধুমাত্র তাদের বাড়েনি, অন্যান্য কর্মচারীদেরও বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধুমাত্র তাদের দিয়ে কেন অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে? অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান ভারত সহ অতিরিক্ত দায়িত্ব তারা সামলাতে পারবেন না।
আরামবাগে আশা কর্মীদের বিক্ষোভ
প্রসঙ্গত, এবারের বাজেটে রাজ্য সরকার আশাকর্মীদের বেতন একধাক্কায় ৫০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছিল। এমনকি গতকাল এ বিষয় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী রাজ্যের আশাকর্মীদের যেখানে আগে বেতন ছিল ৬২৫০ টাকা, এখন অতিরিক্ত ৫০০০ টাকা যুক্ত হয়ে তা দাঁড়িয়েছে ১১,২৫০ টাকায়। বেতন বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তাদের। সেই দাবি এবার মান্যতা দিয়েছে সরকার। কিন্তু তাতেও খুশি নন তারা। অতিরিক্ত কাজের চাপে বিক্ষোভে নামল মহিলারা।
এদিন আরামবাগ বিডিও অফিসে আশাকর্মীরা জড়ো হন। তাদের একটাই দাবি, মা ও শিশুদের দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু রাজ্য সরকার তাদের উপর বাধ্য করে অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হচ্ছে। এই ধরনের কাজের জন্য তাদের কোনও প্রশিক্ষণ নেই। এমনকি দিনের পর দিন বাড়ছে কাজের চাপ। এই কাজের কারণে মূল স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তারা। এমনকি তাদের আরও দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে তাদেরকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে কোনও স্পষ্ট কারণ দেখানো হচ্ছে না রাজ্যের তরফ থেকে।
আরও পড়ুন: ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতি! কাটোয়ায় গ্রামজুড়ে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল টাকা
এদিন এই সমস্ত দাবি তুলেই তারা ভিডিও অফিসের দ্বারস্থ হয়ে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। প্রতিবাদরত এক আশাকর্মীর কথায়, “আমাদেরকে অন্নপূর্ণার ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকের টাকা ঢোকেনি। সেই কারণে বারবার তারা ফোন করছে এবং তাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আয়ুষ্মান ভারতে কারোর ফর্ম না আসলেও দায়ভার নিতে হচ্ছে আমাদের। অথচ আমাদেরকে আবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।” আরেক মহিলার কথায়, “বেতন বাড়িয়েছে মানে এই নয় যে আমাদেরকে দিয়ে ডেটা অপারেটরের মতো কাজ করিয়ে নেওয়া হবে। সরকার শুধু আশাকর্মীদের বেতন বাড়ায়নি। শিক্ষক ও কর্মচারীদের ডিএ-ও বেড়েছে। তাদেরকে দিয়েও কাজ করান। পার্শ্ব শিক্ষকদের উপরেও চাপ দিন।”










