প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকারি প্রকল্পের (Government Scheme) সুবিধা নিতে গিয়ে বিপাকে গ্রাহক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ‘বাংলার বাড়ি’র (Awas Yojana) ৬০ হাজার টাকা ফেরতের নির্দেশ পেলেন বীরভূমের (Birbhum) বাসিন্দা আলেনুর বিবি। নির্দেশপত্র পাওয়ার পরই সোমবার বিডিও অফিসে দেখা করলে তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয় নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
প্রথম কিস্তির টাকা ফেরতের নির্দেশ প্রশাসনের
পূর্বতন সরকার তৃণমূলের আমলে শুরু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি ’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়া উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার পুনরায় সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, প্রকল্পের অর্থ বা সুবিধা কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে না পায় তা খতিয়ে দেখা। আর এবার সেই সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভোটার তালিকায় নাম নেই, কিন্তু তবুও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন দুবরাজপুরের আদমপুর গ্রামের আলেনুর বিবি। সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশ্যে আসা মাত্রই এবার সেই টাকা ফেরতের নির্দেশ দিল দুবরাজপুর বিডিও অফিস।
কেন এই নির্দেশ?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য সমীক্ষা শুরু হতেই বীরভূমের দুবরাজপুরের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা আলেনুর বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে SIR চলাকালীন ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। এদিকে সে রাজ্যের সরকারি প্রকল্পের গ্রাহক। এমনকি সরকারের তরফে বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও পেয়েছেন, যা বেআইনি। তাই সেই টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য দুবরাজপুরের বিডিও অফিস থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। আর সেই নির্দেশপত্র পাওয়ার পরই গতকাল সোমবার দুবরাজপুর বিডিও অফিসে গিয়ে দেখা করেন আলেনুর বিবি। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভিজল না, উল্টে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থার নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জল্পনাই হল সত্যি? নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী চন্দ্রনাথের মা, পড়ল পোস্টার
প্রসঙ্গত, চলতি বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ির লেন্টেল স্তর পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু SIR প্রক্রিয়া এবং বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কারণে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দেওয়া স্থগিত রাখা হয়। তাই বর্তমানে নতুন সরকার সেই অর্থ প্রদানের প্রস্তুতি শুরু করতে চাইলে তার আগে উপভোক্তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়, আর তাতেই ধরা পড়ে এই তথ্য।










