সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর দশমীর আনন্দ এক মুহূর্তেই বিষাদে বদল নেয় জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মোহিতনগর ডাঙ্গাপাড়ার এক কৃষক পরিবারে। সিঁদুর খেলতে গিয়ে প্রদীপের আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে আহত হন বর্ণালী রায় নামে এক গৃহবধূ। তবে সরকারি প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে মোটা অংকের চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস অবস্থা পরিবারের। অবশেষে জেলা শাসকের দ্বারস্থ তাঁরা।
মিলছে না সরকারি প্রকল্পের সুবিধা
ঘটনার সূত্রপাত বিজয়া দশমীর দিন। প্রদীপের আগুনেই বর্ণালীর শরীরের একটি বড় অংশ পুড়ে যায়। প্রথমে তাঁকে দ্রুত জলপাইগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে আইসিইউ এবং অন্যান্য চিকিৎসার খরচে কয়েকদিনের মধ্যেই তৈরি হয় মোটা অংকের বিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষিকাজ করে চলা ওই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গরিব মানুষের জন্য আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা থাকলেও শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে সেই প্রকল্পের কোনও সুবিধা মিলছে না বলেই অভিযোগ। বাধ্য হয়ে শেষমেষ শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা জেলা শাসকের দ্বারস্থ হন এবং চিকিৎসার খরচে সরকারি সাহায্যের আবেদন জানান।
আরও পড়ুন: বদ্রিনাথ থেকে ফেরার পথে ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার, নিখোঁজ চালক সহ প্রত্যেকে
তবে ঘটনার খবর পেয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন রাজগঞ্জের বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক এবং পরিবারটিকে বাঁচাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সাহায্যের আবেদন জানাবেন। তবে সাধারণ মানুষের এই পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে মিলছে কিনা তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।










