জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় আসবে বাংলা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মসনদে বসেই একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার রাজ্যের সরকারি এবং আধা সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন তিনি। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন আর্থিক অনুদান না পাওয়ার পর কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ড ফান্ডের আওতায় মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ২৯৬ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা করা হবে। এর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষানীতি এবার পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি

২০২০ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি ২০২০ চালু করেছিলেন। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গও সেই একই শিক্ষানীতির আওতায় চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান, “বিগত সরকারের আমলে শিক্ষার মান দিনের পর দিন কমেছে। কিন্তু নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র এবং রাজ্য যৌথভাবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা ইতিমধ্যেই উচ্চশিক্ষা বিভাগ আলাদা করে দিয়েছি। এবার কেন্দ্র সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি মেনেই আগামীদিনে রাজ্যের স্কুলগুলিতে আধুনিক শিক্ষার সাথে ভারতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হবে। এমনকি বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিতে অভিভাবকদের যুক্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালে সরকারি স্কুলগুলোতে অডিও এবং ভিজ্যুয়াল শিক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০০০ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে অটল লাইব্রেরির পাশাপশি ৮০০ স্কুলকে পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় এনে সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলোতে সোলার প্যানেল, ১০০% বিদ্যুৎ, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না করার ব্যবস্থা, শৌচালয়, এবং ফ্যান ও লাইট লাগানোর কর্মসূচি সম্পন্ন করবে আমাদের সরকার।”

আরও পড়ুন: ফের দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের, এবার লিটারে কত বৃদ্ধি?

এদিন শিক্ষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আরও সংযোজন, “রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদেরকে স্কুলমুখী করা আমাদের লক্ষ্য। তবে সরকারি স্কুলগুলোকে বেসরকারি স্কুলের সমতুল্য করে না তুলতে পারলে অভিভাবকরা তো বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকবেই। এই রাজ্যে শিক্ষার বাজারীকরণ এবং পণ্য হিসাবে ব্যবহার করার চক্রান্ত চলেছে আগের সরকারের আমলে। জয়েন্ট এনট্রান্সের পর তো বহু ছাত্রছাত্রীরা বাইরের রাজ্যে চলে যায়। মেধার ভিত্তিতে দ্রুত ভর্তির ব্যবস্থা চালু করার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভর্তির সংখ্যাও অনেকটাই বেড়েছে। তবে বিজেপি সরকারের আমলে শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।”