২০১১ থেকে আটকে, অবশেষে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো নিয়ে সুখবর! জারি ই-টেন্ডার

Published:

Baranagar-Barrackpore Metro

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অবশেষে বাংলার আরও একটি মেট্রো প্রকল্পে জট কাটতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বরানগর–ব্যারাকপুর মেট্রো (Baranagar-Barrackpore Metro) করিডোরটি কেবল কাগজে-কলমে, রেলের বাজেটে এবং অভিপ্রায়পত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে আর এসব অতীত। কারণ এই মেট্রো প্রকল্প নিয়ে শুরু হল তোড়জোড়। গত ২৯ জুলাই, ২০২৬-এ, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) এই করিডোর বরাবর ১০টি এলিভেটেড মেট্রো স্টেশন এবং একটি এলিভেটেড ভায়াডাক্ট নির্মাণের জন্য একটি সরাসরি ই-টেন্ডার জারি করেছে।

বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পে নয়া মোড়!

এক রিপোর্ট অনুযায়ী, যে টেন্ডারটি জারি করা হয়েছে তার মূল্য ১,৫৮৭.৩৯ কোটি টাকা এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এরইসঙ্গে পিঙ্ক লাইন করিডোরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হলো। কাজ আদৌও করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু করে দিয়েছিল খড়গপুর আইটিআই। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড সূত্রে খবর, সমীক্ষায় কাজের ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত মিলতেই দরপত্র প্রকাশে কোনও গড়িমসি করল না আরভিএনএল।

জানা গিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মোট ৪২ মাসে ১০ মেট্রো স্টেশন তৈরি হবে উল্লেখ্য করিডোরে। ২০২৬ সালের মে মাসে আরভিএনএল এবং কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি)-র মধ্যে নতুন করে আলোচনার পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে সেই কৌশলগত অচলাবস্থার সমাধান হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে এই কাজে নানা ভাবে বাধা আসছিল। সবচেয়ে বড় অচলাবস্থাটি ছিল ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড (বিটি রোড)-এর নিচে, মেট্রোর প্রস্তাবিত পথের ঠিক নিচে মাটির গভীরে চাপা পড়া শতবর্ষী জল সরবরাহ লাইনের এক জটলা। তবে এখন সেই জটও অতীত বলে খবর।

২০১১ থেকে আটকে ছিল কাজ

আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিটি রোডে মেট্রো নির্মাণের জন্য মাইক্রো টানেলিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে মাটির নীচে বিকল্প পাইপলাইন বসিয়ে পলতা থেকে টালা ট্যাঙ্কে জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। এরপর ধাপে ধাপে পুরনো পাইপলাইন সরিয়ে মেট্রোর কাজ এগোবে। এতে কলকাতার পানীয় জল পরিষেবা ব্যাহত হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে কলকাতা পুরসভা ও রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ভারতীয় রেল নিয়ে আমি গর্বিত” মোদী সরকারের প্রশংসায় ভিডিও বার্তা সোনম ওয়াংচুকের

অনেকেই হয়তো জানেন না যে পিঙ্ক লাইন—যার আনুষ্ঠানিক নাম কলকাতা মেট্রো লাইন ৫—২০১০-১১ সালের কেন্দ্রীয় রেল বাজেটে ২,০৬৯.৬ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পায়, সেইসময়ে রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট অর্থাৎ ডিপিআর প্রস্তুত করা হয়। এর পরপরই নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে যা ঘটেছিল তা হলো দেড় দশকের প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা। অবশেষে এই কাজে গতি আসতে চলেছে বলে খবর।