প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল বারাসতে (Barasat)। আর এই খবর (Barasat Child Abuse Case) প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে নীলগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায়। এদিকে ওই শিশুটির দ্রুত চিকিৎসার জন্য বারাসাত হাসপাতালে (Barasat Medical College And Hospital) নিয়ে আসা হলে সেখানেও ঘটে আরও এক বিপদ। অভিযোগ ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও চিকিৎসা শুরু হয় ওই শিশুর, তুমুল শোরগোল এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, উত্তর চব্বিশ পরগনার নীলগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, শিশুটিকে নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন তার মা। সেখানেই নিগ্রহের শিকার হয় ওই শিশুটি। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা শিশুটি এবং তার পরিবারকে সুভাষনগরে নিয়ে আসেন। প্রথমে নীলগঞ্জ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরে ঝামেলা অশান্তির পর দত্তপুকুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।
হাসপাতাল চত্বরে অশান্তি
শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে তড়িঘড়ি বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাঁচ ঘণ্টা ধরে ওই শিশুকে বিনা চিকিৎসায় রেখে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ “এই হাসপাতালে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। দরকারের সময় কোন ডাক্তারকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা চাই শীঘ্রই স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেন এই হাসপাতালে একবার পরিদর্শন করে যাক।” এদিন হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন শিশুটির বাবা-মা।
আরও পড়ুন: বাঁকুড়ায় রেললাইনে মিলল পুলিশ ইন্সপেক্টরের দেহ, খুন না আত্মহত্যা?
ঝামেলা অশান্তির মাঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালটা সাফাই দিয়ে জানায় যে, “সেই সময়ে একমাত্র মহিলা চিকিৎসক অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যস্ত থাকায় শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে দেরি হয়েছে।” এই বিলম্বকে কেন্দ্র করেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবার অভিযুক্তের চরমতর শাস্তির দাবি করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়রাও অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










