বারুইপুরে পুলিশের এনকাউন্টার, পালাতে গিয়ে মৃত্যু অন্যতম অভিযুক্তর

Published:

Baruipur Encounter

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বিরাট ঘটনার ঘটে গেল বারুইপুরে। বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে এমনিতেই উত্তাল বাংলা। দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ প্রতিবাদ। এরই মাঝে পুলিশের এনকাউন্টারে (Baruipur Encounter) শেষ হল ঘটনায় অন্যতম এক অভিযুক্ত। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল উক্ত ব্যক্তি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত অন্যতম অভিযুক্ত

সবথেকে বড় কথা, বাংলায় এই প্রথম ধর্ষণ খুনকাণ্ডে কোনও এনকাউন্টার হল এবং কারোর মৃত্যু হল। সূত্রের খবর, ঘটনার পুননির্মাণের সময়েই নাকি অন্যতম অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। এদিকে নিজেদের রক্ষা করতে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে পুলিশও। এরপর এই গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের। আরও জানা গিয়েছে, এই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে নাবালিকাটিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল।

কী ঘটেছিল?

 বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে ঘটনার পুননির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশ কর্মকর্তার আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালালে মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ তাকে গুলি করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারুইপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্মকর্তাদের একটি দলসহ রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্ত প্রভাশ মণ্ডলকে নিয়ে সূর্যপুরে অপরাধ স্থলে যেখান থেকে মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রভাস মণ্ডল একজন পুলিশ কর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ বাহিনীর দিকে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ পাল্টা জবাব দিলে অভিযুক্ত আহত হয়। তাকে সঙ্গে সঙ্গে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল বাংলা

গোত ৪ জুলাই নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে যে, সে এক বন্ধুর জন্য উপহার কিনতে বাইরে গিয়েছিল। এরপর অনেক সময়ে কেটে যাওয়ার পরেও মেয়েটি বাড়ি না ফেরায় পরিবার পুলিশের কাছে নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট দায়ের করে। পরে রবিবার সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল য়নাতদন্তে আরও জানা গেছে যে, অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণের পর জীবন্ত অবস্থায় পুকুরে ফেলে দিয়েছিল। তার ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়া গিয়েছিল। জলে ডুবে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।