সৌভিক মুখার্জী, বাসন্তী: পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। বাবা দিনমজুর। কোনও দিন খাওয়া জোটে, কোনও দিন নুন ভাত খেয়েই থাকতে হয়। সেই সুন্দরবনের সেলিমার (Selima Molla) ভাগ্য যেন রাতারাতি বদলে গেল। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল সুন্দরবনের এই নবম শ্রেণির ছাত্রীর। তবে এবার তাঁর স্বপ্ন আরও বড়। পুলিশ হতে চায় সেলিমা। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বড় আবেদন তাঁর পরিবারের।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন বাসন্তীর সেলিমার
সুন্দরবন এলাকার বাসন্তীর আমঝাড়ার বাসিন্দা সেলিমা মোল্লা। বাবা সেলিম মোল্লা একজন দিনমজুর। সেলিমা ক্লাস নাইনের ছাত্রী। পড়াশোনায় ছোট থেকেই সে ভালো। পড়াশোনাকে হাতিয়ার করেই ভবিষ্যতে অনেক দূর এগোতে চায় সে। তবে দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে ভালো টিউশন তো দূর, ঠিক মতো দু’বেলা খাওয়া পর্যন্ত জোটে না। বেশিরভাগ সময় পান্তা খেয়ে থাকতে হয় তাঁদের। খাওয়া-দাওয়া বলতে গেলে নিরামিষ। শাকসবজি দিয়েই চলে বেশিরভাগ দিন।
আবার যেদিন সেটুকু না জোটে, সেদিন লঙ্কা দিয়েই পান্তা ভাত খেয়ে দিন কাটাতে হয়। তবে তাঁর বাড়ি-ঘরদোরের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। সরকার থেকে পায়নি এখনও পর্যন্ত পাকা বাড়ি। মাটির দেওয়াল। বহু বছর আগের খড়ের ছাউনি। বর্ষার সময় জলে ভেসে যায় গোটা ঘর। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয় তাঁদের। আগের সরকারের তরফ থেকে ঘর তো দূর, জোটেনি একটা ত্রিপলও। তাই এবার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সেলিমা এবং তাঁর পরিবারের আবেদন, যাতে একটা পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ফের মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে কমল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
সেই খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বিজেপি নেতা বিকাশ সর্দার সেলিমার বাড়িতে গিয়ে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেন। এমনকি তিনি জানান, সরকারের নিয়ম মেনে তাঁদের কাঁচা বাড়িটিকে পাকা করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা পড়েছে এই আবেদন। উল্লেখ্য জানিয়ে দিই, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর লালকেল্লায় উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়ে দুশ্চিন্তা নেমে আসে তাঁর পরিবারের উপর। কারণ, গরিব পরিবারে দিল্লি যাওয়ার খরচ যোগানো কার্যত অসম্ভব ছিল। তবে সেই সময় ত্রাতা হিসেবে পাশে দাঁড়ান ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক। তাঁর সাহায্যেই দিল্লি যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় সেলিমার। এখন সে একজন পুলিশ অফিসার হতে চায়। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা তাঁর লক্ষ্য। তাঁর আগামীদিনের জন্য আমাদের তরফ থেকেও রইল শুভকামনা…










