৯ মাস নয়, গত ৫ বছরের সব বার্থ সার্টিফিকেট যাচাইয়ের নির্দেশ! অসঙ্গতি দেখলেই শাস্তি

Published:

Birth Certificate Verification

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ফের রাজ্য সরকারের আতসকাঁচের নীচে জন্ম শংসাপত্রগুলি (Birth Certificate)। এবার যাচাই প্রক্রিয়ার পরিধি আরও বিস্তৃত করলো শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। প্রথম ধাপে, নবান্ন গত ৯ মাসে ইস্যু করা বার্থ সার্টিফিকেটগুলি যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি, শীর্ষ প্রশাসনের তরফে তৃণমুল জমানার শেষ পাঁচ বছরে ইস্যু করা সমস্ত জন্ম শংসাপত্র যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং সমস্ত জেলা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে ডিজিটাইজড করা এবং অফলাইনে ইস্যু করা উভয়ই ধরনের সার্টিফিকেই যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্যও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো বার্থ সার্টিফিকেট যাচাই করবে সরকার

রাজ্য গত মে মাসে বিজেপি সরকার গঠনের পর, নবান্নের তরফে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ১৪ মে, ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে ইস্যু করা বার্থ সার্টিফিকেটগুলি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ার রিপোর্টে প্রচুর পরিমাণে ভুয়ো সার্টিফিকেট শনাক্ত করেন সরকারি আধিকারিকেরা, যার ফলে সরকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেয়। 

এই ঘটনার পর সম্প্রতি নবান্ন ১ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর মধ্যে ইস্যু করা শংসাপত্রগুলি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছে। কর্তৃপক্ষ ডিজিটাইজড সার্টিফিকেটের বৈধতা পরীক্ষা করবে এবং প্রকৃত জন্মের অনেক পরে নাম নিবন্ধনের (Delayed Registration) করে ইস্যু করা শংসাপত্রগুলির ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, সেটা আদৌ আইনসম্মত কিনা, তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন: জোট বাঁধল Vi ও BSNL! আরও শক্তিশালী হবে পরিকাঠামো

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, গ্রামীণ এলাকায় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) এবং শহরাঞ্চলে সাব-ডিভিশনাল অফিসার (SDO)-রা এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার  তত্ত্বাবধান করবেন এবং কাজটি সম্পন্ন করার জন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে দল গঠন করবেন। প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য জমা দেওয়া নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে এবং তার ভিত্তিতে প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য একটি ভেরিফিকেশন রিপোর্ট তৈরি করা হবে, যেখানে সেগুলোকে বৈধ, অবৈধ বা অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হবে। এই রিপোর্টগুলিকে সমস্ত সহায়ক নথিপত্র ও তথ্যের সাথে, সরকারি ‘জন্ম ও মৃত্যু তথ্য’ পোর্টালে আপলোড করা হবে। অবৈধ বা অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সার্টিফিকেটগুলোর ক্ষেত্রে তার কারণও উল্লেখ করা হবে।

প্রশাসনিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ সার্টিফিকেট শনাক্ত হওয়ার কারণে যাচাইকরণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে যে, সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির ঘটনাগুলো ওই পাঁচ বছরের মধ্যেই ঘটেছে। অনেকেই বলছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময় জমা পড়া নথিপত্র ও তথ্যের যে ধরন দেখা গেছে, তা জন্মের এই ‘বিলম্বিত নিবন্ধন’-এর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। 

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে লটারিই ভাগ্য ফেরাতে পারে এই ৬ রাশির!

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারী আর সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলি পাবেন না। তাই এই যাচাইকরণের প্রক্রিয়াটিকে আরও জোরদার করা হয়েছে। নতুন পর্যায়ে পাওয়া অসঙ্গতিগুলির জন্য নির্দিষ্ট কোনও পঞ্চায়েত প্রধান বা পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। কেননা, জন্ম ও মৃত্যুর  রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের আগে এই ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।