সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত (Bangladesh–India Border) ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। বামফ্রন্ট থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন এতদিনে বর্ডারে বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়নি। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্ত সুরক্ষা করা হবে, এবং সম্পূর্ণ সীমান্তে কাঁটাতার অর্থাৎ বেড়া দেওয়া হবে। সেই মতোই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) গত সাংবাদিক বৈঠকে বিএসএফকে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করেছেন। আর এ নিয়েই বিএসএফের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হল বিজিবির।
বর্ডারে কাঁটাতার বসানো নিয়ে বাংলাদেশের সাথে বাগবিতণ্ডা
আসলে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে বাংলাদেশ সীমান্তে গত বৃহস্পতিবার বিএসএফ বেড়া দিচ্ছিল। তবে এতেই বাঁধে বিপত্তি। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের লালমনিরহাট এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত নম্বর ৮০৬ এর কাছে বিএসএফ বেড়া এবং স্তম্ভ নির্মাণ চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড, অর্থাৎ বিজিবি। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়, এবং দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ও সংঘর্ষ হয়।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটলেও এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার। হিন্দু ভয়েসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, বিজিবি কর্মকর্তারা আগেই খবর পেয়েছিল যে, বিএসএফ জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছাকাছি অঞ্চলেই বেড়া এবং নতুন পিলার স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমতাবস্থায় তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং বিএসএফের বেড়া দেওয়ার কাজ বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী সীমান্তের ন্যূনতম ১৫০ গজের মধ্যে কোনও রকম স্থায়ী নির্মাণ বা স্থাপনা তৈরি করা যায় না। তবে বিএসএফ সেই নিয়ম মানেনি।
Today, BSF along with officers of the land department went to put pillars along the Patgram-Lalmonirhat international border of the #Coochbehar district.
BGB( Border Guard Bangladesh) personnel stopped the work. pic.twitter.com/PmNzkbO97v
— Hindu Voice (@HinduVoice_in) May 22, 2026
আরও পড়ুন: চিনে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা, মৃত ৯০ শ্রমিক, আহত শতাধিক
তবে এই ঘটনার পর উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর। আর সেখানে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবেই এই বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে ভারত এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু সীমান্ত ইস্যু নিয়ে যে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, কত তাড়াতাড়ি এই বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স।










