সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবসান ঘটেছে দীর্ঘ দেড় দশকের মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের। ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হত হাওড়ার ১৪ তলার নবান্ন (Nabanna) বিল্ডিং। যদিও ২০১১ তে ক্ষমতায় ফেরার পর রাইটার্স বিল্ডিং-এ কার্যক্রম চালাত। কিন্তু আচমকা ২০১৩ সালে লোটাপত্র গুটিয়ে সরকার চলে যায় এই নবান্নে। কিন্তু বিজেপি (Bharatiya Janata Party) আবারও রাইটার্স বিল্ডিং-এ সরকার চালাবে বলে জানিয়েছে। তাহলে এখন কী হবে নবান্নের?
নবান্ন নিয়ে তৈরি হচ্ছে জল্পনা
উল্লেখ্য, নবান্ন কিন্তু তৃণমূল শাসনের বিল্ডিং নয়। বাম আমলে তৈরি। রাজ্যের বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থেই হাওড়ার শিবপুরে এই বিল্ডিংটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিল্ডিং তৈরি করার পরই ক্ষমতা চলে যায় বামেদের হাত থেকে। তাদের লক্ষ্য ছিল, হাওড়ার মঙ্গল হাট সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় যে হাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেগুলিকে একই কমপ্লেক্সের তলায় নিয়ে আসা। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ক্ষমতায় পালাবদল ঘটে রাজ্যের।
২০১১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তৃণমূল কংগ্রেস রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সমস্ত কার্যক্রম চালাত। তবে আচমকা ২০১৩ এর পর সেই ‘লালবাড়ি’ ফেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যান হাওড়ার ১৪ তলার এই বিল্ডিং-এ, এবং পরে নীল-সাদা রং করে নামকরণ করা হয় নবান্ন। এমনকি দেশের তাবড়তাবড় সব নেতা-নেত্রীরা এখানে এসেছেন। আর অনেক ঝড়ের রাতেও মমতা ব্যানার্জিকে এখানে রাত কাটাতে হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি তো নবান্নে সরকার চালাবে না। তাহলে কি আবারও বামেদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই বিল্ডিং?
সূত্রের খবর, এবার নবান্নে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনাই করেনি বিজেপি সরকার। কেউ কেউ চাইছে, বাম আমলে সরকার যে স্বপ্ন দেখেছিল সেই স্বপ্ন আবার পূরণ করা হোক। অর্থাৎ, নবান্নে যে হাট কমপ্লেক্স তৈরি হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ হোক। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন যে, হাট কমপ্লেক্স তৈরি হলে এখানে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তা নষ্ট হবে।
আরও পড়ুন: মেনে চলতে হবে কঠিন নিয়ম, মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর কী দায়িত্ব শুভেন্দুর?
তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান যে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়েছে, তারা শিল্প, কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেবে। হাওড়া থেকে তো শিল্প–সংস্কৃতি তাড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল সরকার। আবার যাতে তা ফিরে আসে সেই ব্যবস্থা করবে বিজেপি। পাশাপাশি সিপিআইএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি আর্জি জানাবো আবারও এই বিল্ডিং-এ যাতে বস্ত্র শিল্পের জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।










