প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার রদবদল হতেই রাজ্যের একাধিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যবস্থা একগুচ্ছ পরিকল্পনা করে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি বাদ যায়নি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (West Bengal Health Service)। এমতাবস্থায় বাংলায় জন ঔষধি কেন্দ্র (Jan Aushadhi Kendra) নিয়ে বড় আপডেট দিলেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য (Amit Malviya)। জানা গিয়েছে, নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে রাজ্য জুড়ে বর্তমানে ১,০০০টিরও বেশি ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ পুরোদমে চালু হয়েছে।
কী বলছেন অমিত মালব্য?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বৃহস্পতিবার, এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত একটি জরুরি তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, “প্রতিটি পরিবারের জন্য সস্তা ও উচ্চমানসম্পন্ন ওষুধ পৌঁছে দিতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ১,০০০টিরও বেশি ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ পুরোদমে চালু হয়েছে, যেখান থেকে ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে জেনেরিক ওষুধ কিনতে পারছেন সাধারণ মানুষ।” এরপরই তিনি রাজ্যসভায় পেশ করা কেন্দ্র সরকারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, “২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট ১,০১৪টি জন ঔষধি কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে।”
Affordable Medicine for Every Bengali Family!
West Bengal has crossed a major milestone, with 1,000+ Jan Aushadhi Kendras now operational across the state, bringing quality generic medicines within reach of every household at up to 50–90% lower prices than branded alternatives.… pic.twitter.com/Tvqh0eZ3kc
— Amit Malviya (@amitmalviya) September 3, 2026
সরকারি হাসপাতালে খোলা হবে আরও জন ঔষধি কেন্দ্র
রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে ওঠার শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা, সেখানে রয়েছে ২০৩টি কেন্দ্র। এর পাশাপাশি কলকাতায় ১৬২টি এবং হুগলি ও হাওড়া জেলায় ১০৯টি করে জন ঔষধি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এদিন অমিত মালব্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে আরও জানান যে, “এই সাফল্য এবং উদ্যোগ এখানেই থমকে থাকবে না। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের সুবিধার্থে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আরও ৪৬৯টি নতুন জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সরাসরি চিকিৎসার স্থান থেকেই অতি সুলভে দরকারি মানসম্পন্ন ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।”
আরও পড়ুন: “‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে মিলবে না স্কুল অনুদান” মাদ্রাসা নিয়েও বিশেষ বার্তা শুভেন্দুর
স্বাস্থ্যপরিষেবা যে বিলাসিতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার সেই কথা উল্লেখ করে অমিত মালব্য জানান, নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুপ্রভাব সরাসরি এখন পৌঁছে যাচ্ছে বাংলার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে। এদিকে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার অর্থাৎ ৬ কোটি মানুষ প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি, তালিকার বাইরে থাকা অবশিষ্ট পরিবারের জন্য থাকবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’।










