“‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে মিলবে না স্কুল অনুদান” মাদ্রাসা নিয়েও বিশেষ বার্তা শুভেন্দুর

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার রদবদল হতেই নয়া বিজেপি সরকার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েই চলেছে। আর এবার রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা (WB Education System) নিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিক্ষার আলো থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় এবং এই ব্যবস্থায় যাতে কোনো বৈষম্য না থাকে তার বার্তা দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকারি অনুদান পেতে হলে স্কুলের প্রার্থনা সভায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া বাধ্যতামূলক।

বন্দে মাতরম নিয়ে কড়া দাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বৃহস্পতিবার, গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে বিদ্যাভারতীর বার্ষিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও ছিলেন বিদ্যাভারতীর যতীন্দ্র কুমার শর্মা, রবীন্দ্র চামারিয়া-সহ বহু বিশিষ্ট। আর সেখানেই তিনি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমস্ত বৈষম্য দূর করার বার্তা দিয়ে এক নয়া শিক্ষাব্যবস্থা চালুর বার্তা দিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে জানান যে, “প্রথমে কিছুজনের আপত্তি ছিল, কেন বন্দে মাতরম পুরোটা গাইতে হবে। আমি বললাম, সরকারি সাহায্য নেওয়া এবং দেওয়া দু’টোই বন্ধ হবে। শিক্ষা সচিব ভিডিও পাঠালেন, দেখালাম অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু ঠোঁট নড়ছে না। বললাম ঠোঁটও নাড়াতে হবে।” এরপরই মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিলেন।

মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে নয়া ইঙ্গিত

অনুষ্ঠান চলাকালীন জনসমক্ষে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, “এই সরকার রাষ্ট্রবাদী সরকার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামীজির ভাবধারাকে সামনে রেখে এগোবে…দেখতে থাকুন ধীরে ধীরে আলাদা করে কোনও মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম থাকবে না। সব বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা দপ্তর দেখবে আর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে দেখা হবে, এসব চলবে না।” এছাড়াও এদিন আগামী এক বছরে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত রাজ্যে ‘বিদ্যাভারতীর’ বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছনোর টার্গেট ঘোষণা করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাস কন্ডাক্টরদের গায়ে বডি ক্যামেরা থেকে একগুচ্ছ নয়া প্রকল্প, বড় পদক্ষেপ পরিবহন দফতরের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বাম ও তৃণমূল আমলের শিক্ষানীতির নিয়ে সমালোচনা করে বলেন যে, “সিঙুরে টাটাকে তাড়ানো সিলেবাসে ছিল কিন্তু ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দর পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস রাখা হয়নি। চাকরি চুরির দায়ে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাবেন কিন্তু আত্মবলিদান দেওয়া ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে গেলে অনেক পাতা ওল্টাতে হবে।” এমনকি এক খুদে পড়ুয়ার চন্দনের টিপ মোছানোর ঘটনা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেছিলেন।