প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ডেডলাইন পার হতেই কড়া অ্যাকশনে নামল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার! অবশেষে ভাঙা পড়ল ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার (Saokat Molla) পুত্রের বেআইনি ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে এসে পৌঁছায় বুলডোজার (Bulldozer)। প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা অমান্য করায় মুহূর্তের মধ্যেই ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় গোটা ক্যাফেটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়, তার জন্য এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভাঙা পড়ল বেআইনি ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, বৃহস্পতিবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের মৌখালি এলাকায় সকাল থেকে শওকত পুত্র ইমরান মোল্লার ক্যাফে ভাঙতে ভারী যন্ত্র নিয়ে অভিযানে নামে প্রশাসন। গোটা চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে। ক্যানিংয়ের এসডিপিও (SDPO)-র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। একের পর এক অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে বহুল আলোচিত ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফেটির। গত ২৯ জুন পর্যন্ত ক্যাফে ভেঙে ফেলার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানোয়, এবার সেখানে চলল বুলডোজার। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি দখল করে আইনের বাইরে গিয়ে তৈরি কোনও স্থাপনাকেই রেয়াত করা হবে না।
তৃণমূলের আমলে রমরমিয়ে চলেছিল বেআইনি ক্যাফে
স্থানীয়দের অভিযোগ, শওকত মোল্লা বিধায়ক থাকাকালীন মাতলা নদীর চরের উপর বেআইনি ভাবে ক্যাফেটি গড়ে তোলা হয়েছিল। তৃণমূলের জমানায় সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করেনি। নিয়মের তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে চলছিল সেই ব্যবসা। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই খেলা ঘুরে গেল। ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে NIA যখন শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে। তখনই তদন্ত চলাকালীনই প্রশাসনের নজরে আসে মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় তৈরি এই ক্যাফেটি। ইমরান মোল্লাকে ক্যাফের সমস্ত নথি নিয়ে মহকুমাশাসকের দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, নির্মাণের কোনও বৈধ অনুমোদন নেই।
আরও পড়ুন: অনেকটাই কমল সোনা, রুপোর দাম! দেখুন আজকের রেট
প্রসঙ্গত, স্থানীয়দের তরফে দীর্ঘদিন ধরে ‘অরণ্যের কূলে’ নামক ক্যাফেটি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল। অবশেষে নদীমাতৃক সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসন বড় পদক্ষেপ নেওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ঝামেলা অশান্তির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য এলাকায় করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। উপস্থিত রয়েছেন ক্যানিং মহকুমা পুলিশের আধিকারিকেরা এবং জীবনতলা থানার পুলিশও।










