বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে যত ধরনের কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) দেওয়া হয়েছিল, সবটাই যাচাই করা হবে বলেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। অভিযোগ ছিল, দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে বিলি করা কাস্ট সার্টিফিকেটের একটা বড় অংশ ভুয়ো হতে পারে। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল নবান্ন। আর সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। এবার সেই মামলাতেই কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল উচ্চ আদালত।
যাচাই করা যাবে না কাস্ট সার্টিফিকেট?
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতোই, 2011 সাল থেকে ইস্যু হওয়া 1.69 কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। আসলে গত 15 বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে তপশিলি জাতি, উপজাতি সহ যেসব ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে সেইসব সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে নানান অসঙ্গতি থাকতে পারে, এমন আশঙ্কাতেই সেগুলি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার।
গত 14 মে, কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতে রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। নির্দিষ্ট সময় থেকে যাবতীয় SC, ST, OBC সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করার প্রয়োজন কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এবার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ জারি করল। অর্থাৎ এখনই চাইলেও কাজ সার্টিফিকেট যাচাই করতে পারছে না রাজ্য।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে উত্তর কলকাতায় ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরোনো বাড়ি, মৃত ১
উল্লেখ্য, এর আগে 2011 সালের পর থেকেই ইস্যু হওয়া রাজ্যের সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাই করার নির্দেশ দিয়ে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের সচিব সঞ্জয় বনসল সমস্ত জেলার জেলা শাসককে চিঠি দেন। সেই চিঠিতে খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাই করার ক্ষেত্রে কোনও রকম গাফিলতি করা চলবে না। সেটা হলে এর জন্য দায়ী থাকবেন সরকারী আধিকারিকরা। পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










