জনগণনায় শিক্ষকদের ব্যবহার নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জনগণনার (2027 Census) কাজে নিযুক্ত করতে হবে শিক্ষকদের (Teacher)। এ নিয়ে আগেই নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। যদিও পরবর্তীতে নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করেন প্রাথমিকের শিক্ষক শিক্ষিকারা। এবার সেই মামলায় বিরাট নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের তরফে খুব পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিযুক্ত করতে হলে আগে থেকে দিনক্ষণ এবং জায়গার তথ্য জানিয়ে দিতে হবে। একই সাথে শিক্ষকদের এই কাজে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে যাতে প্রভাব না পড়ে সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে বড় নির্দেশ

এর আগে, রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা নির্দেশিকাকে সামনে রেখে জনগণনার কাজে নিযুক্ত সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাকে অন ডিউটি, মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাথমিকের টিচাররা। আর তার পরই সরকারের তরফে 3 আগস্ট জনগণনার কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার নিয়ে জারি করা নির্দেশিকা তুলে নেয় নবান্ন। পূর্বের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে 19 আগস্ট জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার জানায়, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রে যাতে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় কোনও প্রভাব না পড়েই সেদিকটা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জয়েন্ট ডিরেক্টর জানান, সেনসাস ডিউটিতে নিযুক্ত শিক্ষকদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাতে শিক্ষকদের শিক্ষাগত স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে সেজন্য রাজ্যের হোম অ্যান্ড হিলস দফতরকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত 3 আগস্ট জারি করা নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে এমন নির্দেশিকার পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার তরফেও জানানো হয়, জনগণনার কাজে নিযুক্ত সকল শিক্ষক এবং সরকারি কর্মী অন ডিউটি মর্যাদা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: নতুন রুটে যাত্রী পরিষেবা, শুরু হল হলদিয়া থেকে কলকাতা বাস, জানুন সময়সূচি ও ভাড়া

পুরসভার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, জনগণনা সংক্রান্ত আইন 1948-এর 15এ ও 15বি ধারায় 2027 সালের জনগণনার কাজে নিযুক্ত সকল শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করা হবে। এমতাবস্থায়, এবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে মিলল বড় নির্দেশ। উচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের আগে থেকে দিনক্ষণ এবং জায়গা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে দিতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষকদের কাজের জন্য পড়ুয়াদের পড়াশোনায় যাতে প্রভাব না পড়ে এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন প্রধান শিক্ষক। এদিকে যাঁরা জনগণনার কাজ করবেন তাঁদের প্রেজেন্ট দিতে হবে। এছাড়াও বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষকদের জনগণনার কাজ দেওয়া হবে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না।