প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তুঙ্গে বাইক বিধিনিষেধ বিতর্ক। কমিশনের (Election Commission Of India) তরফে বাইক মিছিল ও একাধিক বাইক নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। যা নিয়ে বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চ অন্য নির্দেশ দেয়। এবার সেই নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন আনল ডিভিশন বেঞ্চ। নাগরিকের অধিকার খর্ব না করে আজ থেকেই বাইক ব়্যালি ও একাধিক বাইক নিয়ে (Bike Riding) চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।
বাইক চলাচল বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক
দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে নির্বাচনী সভাকে সামনে রেখে সম্প্রতি বাইক চলাচল নিয়ে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল জরুরি কোনও ক্ষেত্র ছাড়া সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই বিতর্ক চরমে ওঠে। এই নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার, হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক সংক্রান্ত কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। এবং জানিয়ে দেয় বাইক মিছিল নিষিদ্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের ওপর লাগামহীন নিষেধাজ্ঞা চাপানো যাবে না। অর্থাৎ বাইক ব্যবহার নিয়ে কমিশনের আগের নির্দেশিকাগুলি পুনর্বিবেচনা করে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মামলা উঠল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে
বাইক বন্ধের ৭২ ঘণ্টার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভোটগ্রহণের দিনের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা যাবে না। কিন্তু এই নির্দেশ মানতে নারাজ কমিশন তাই এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন, আজই ছিল সেই মামলার শুনানি। কিন্তু সেই মামলার ক্ষেত্রেও ধাক্কা খেল কমিশন। বাইক চলাচলের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন করে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় কমিশনের। তাতেই মাথায় হাত পড়ল সকলের।
আরও পড়ুন: বিকেলে একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর সাথে ঝেঁপে বৃষ্টি! কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?
সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজত কুমার গুপ্ত নির্দেশ দিয়েছে যে, দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কেউ যদি বাইক নিয়ে হাওয়া খেতে বেরোতে চান, সে ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। নির্বাচনের সময় বিহার ও অসমে এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির কোনও উদাহরণ নেই। তবে যদি কমিশন এরকম উদাহরণ দেখাতে পারত তাহলে এ রাজ্যেও তাদের আবেদন বিবেচনা করা হত। গাড়ির ক্ষেত্রে কেন বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না সেই প্রশ্নও তুলেছে হাই কোর্ট।










