সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে কথা রাখল মোদী সরকার। লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হল অ্যান্টি পেপার লিক বিল (Anti Paper Leak Bill) বা প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে এমনিতেই এতদিন তোলপাড় ছিল গোটা দেশ। দিল্লির যন্তরমন্তরের বিক্ষোভের আগুন ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়েছিল। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি সিজেপির দাবি কেন্দ্র মেনে নেওয়ায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি মোদী সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর বিল আনবে বলে আগেই জানিয়েছিল। সেই মতোই আজ লোকসভায় পেশ হল বিল।
লোকসভায় পাশ প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল
এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কেন্দ্র সরকার। সেই লক্ষ্য নিয়েই পাশ করা হয়েছে এই বিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী আগেই জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সরাসরি ১০ বছর জেল, এমনকি তার সাথে ১০ কোটি টাকা জরিমানা নেওয়া হবে। তবে বুধবার এই বিল যখন লোকসভায় পেশ হয়, তখন কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। এই বিলের বিরোধিতা করেন রাহুল গান্ধী সহ বিরোধীরা। তাঁর দাবি, দিল্লিতে প্রতিবাদরত পড়ুয়াদের উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। তবে তাঁর মন্তব্যের পর ধ্বনি ভোটের মাধ্যমেই বিরোধীরা ওয়াক আউট করেন, এবং শেষ পর্যন্ত পাশ হয় এই বিল।
আরও পড়ুন: তারকেশ্বরের মতো তারাপীঠেও পুষ্পবৃষ্টি, কৌশিকী অমাবস্যায় বিশেষ উদ্যোগ কমিটির
আসলে এই বিল পেশ নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে ইন্ডিয়া জোট। কিন্তু তা সত্বেও এনডিএ জোটের সমর্থনে লোকসভায় অবশেষে পাশ হল পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। যদিও আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই বিল পেশ করা হবে। তবে এই বিলের আওতায় যে যে শাস্তির বিধান রয়েছে তা হল—
- পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
- কোনও বেসরকারি কিংবা সার্ভিস প্রোভাইডার সংস্থা এই অপরাধে যুক্ত থাকলে সেক্ষেত্রে জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই সংস্থাকে ৮ বছরের জন্য ব্যান করা হবে।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা অনুযায়ী মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করার কথা বলা হয়েছে এই বিলে।










