বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “শাক সবজির মতোই বার্থ বিক্রি করে টিটিইরা।” এক দশকেরও বেশি পুরনো একটি ঘটনার মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। বিগত দিনগুলিতে বারবার ফাঁকা বার্থ একেবারে বেআইনিভাবে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেলের (Indian Railways) টিটিইদের বিরুদ্ধে। তেমনই একটি ঘটনার রায় দিতে গিয়ে বিরাট মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সাথে এই ধরনের অপরাধ রুখতে রেলকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন মামলায় রেলকে নির্দেশ হাইকোর্টের?
ঘটনাটি 2009 সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদহ আসছিল তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনেই দুজন যাত্রীকে মাদক খাইয়ে সর্বস্ব লুঠ করে নিয়েছিলেন ডাকাতেরা। জানা যায়, এই ঘটনায় একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। তবে যিনি বেঁচে গিয়েছিলেন সেই অরুণ চক্রবর্তীকে দীর্ঘদিন হাসপাতালের চিকিৎসারত অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে জানা যায়, ওই দুই যাত্রীর কামড়ায় টাকা নিয়ে বার্থ দিয়েছিল টিটিই!
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, অরুণ চক্রবর্তীরা যেই কামরায় ছিলেন সেই S8 কামরায় অর্থের বিনিময়ে দুজন যাত্রীকে বেআইনিভাবে বসার জায়গা দিয়েছিলেন টিটিই। পরবর্তীতে যাত্রাপথে অরুণ বাবুদের সাথে আলাপ হয় ওই দুজনের। জানা গিয়েছে, পরে তাঁদের মাদক খাইয়ে সব লুঠ করে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন দুজন দুষ্কৃতি। যদিও পরবর্তীতে ঘটনার তদন্ত শুরু হলে নিম্ন আদালতে সাজাও হয়েছিল দুই দোষীর।
অবাক করা বিষয়, ওই দুই দোষীই পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে সেই মামলা। আর তারপরেই কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “ট্রেনে ফাঁকা বার্থ পেলেই বাজারের শাক সবজির মতো সেগুলি বিক্রি করেন টিটিইরা। যেটা একেবারে অন্যায়।”
অবশ্যই পড়ুন: হাইকোর্টে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের দাবি ঠুকল ঋতব্রতরা, কী বলল আদালত?
তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসের ওই ঘটনা নিয়ে রায় দিতে গিয়ে বিচারকরা বলেন, “টিটিইরা যেভাবে টাকার বিনিময় বার্থ বিক্রি করেন, সেটাই অপরাধের সুযোগ করে দেয়।” মূলত এই ঘটনায় এবার ভারতীয় রেলকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট! একই সাথে আদালতের রায়ের কপি অবশ্যই ইস্টার্ন রেলওয়ের ম্যানেজার এবং অন্যান্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










