সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের (Bangladesh) গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু একটি রামমূর্তি তৈরি করা নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস। তবে রবিবার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, এদিন ঢাকার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি কালোবাজারির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে।
কী কারণে গ্রেফতার হরিদাস চন্দ্র?
বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, উত্তরা পশ্চিম থানায় বাংলাদেশের সিআইডি বিভাগ প্রথমে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছিল। সেই সূত্র ধরেই গাইবান্ধা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার অর্থাৎ ১২ জুলাই সিআইডির আবেদনের পর উত্তরা পশ্চিম থানা বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০২২ এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী হরিদাস চন্দ্র সহ আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি পরে তাঁকে ঢাকায় এনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে রাখা হয়েছে।
সিআইডির তদন্তে ওই অভিযুক্তের নামে থাকা মোট ৫টি অ্যাকাউন্ট এবং চারটি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গত ২ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ব্যবসার ব্যবসার আড়ালে দেশী এবং বিদেশি মুদ্রা পাচার করত হরিদাস। এমনকি ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি টাকার বেশি তুলে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ২০২৭-র মাধ্যমিক পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করল পর্ষদ, কোন বিষয় কবে দেখুন
তবে হরিদাসের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী যুক্ত রয়েছেন বলেই সিআইডির প্রাথমিক অনুমান। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অসাধু উপায়ে তারা এই টাকা উপার্জন করেছেন। এমনকি বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে মহম্মদ সুজন নামে আরও এক ব্যক্তির নাম উঠে আসছে, যিনি অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ২ কোটি ২১ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিলেন। তবে রামমূর্তি গড়ে তোলার পিছনে এই আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে বলেই দাবি সিআইডি আধিকারিকদের।










