ট্রাইব্যুনাল নিয়ে এবার রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ কলকাতা হাই কোর্টের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর যাঁদের নাম বিচারাধীন অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে (Tribunal) রয়েছে, তা নিয়ে প্রতিদিন ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ, ট্রাইবুন্যালে কী হচ্ছে? প্রতিদিন সাধারণ মানুষের চার থেকে পাঁচটি করে অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই মতো একেবারে বিরক্ত হয়ে এবার রাজ্য সরকারকে ট্রাইবুন্যালে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিল উচ্চ আদালত। আদালত একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনে শীর্ষ আদালতের দারস্ত হতেই পারে রাজ্য সরকার।

ট্রাইব্যুনালের কাজে বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট

রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের পর যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল সেইসব ব্যক্তিরা এখন ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচারাধীন। জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বিচারাধীন অবস্থায় থাকা একটা বড় অংশের মানুষ ট্রাইবুন্যালে আবেদন করেছিলেন। তবে বিগত তিন দিনের তিন দিনই এই ট্রাইবুন্যালের কাজ নিয়ে উঠেছে ভুরি ভুরি অভিযোগ!

আজ অর্থাৎ শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলায় শুনানি শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্তের বেঞ্চে। সেখানেই বিচারপতি ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে একেবারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জানান, ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলা ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। তাই যত দ্রুত সম্ভব এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

এদিন রাজ্যের সলিসিটার জেনারেল রাজদীপ মজুমদারকে ট্রাইবুন্যাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা পদক্ষেপ নেওয়ার নিতে বলেন হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত। বিচারপতি জানান, “একটু দেখুন ট্রাইবুন্যাল কীভাবে কাজ করছে। এটাতো প্রশাসনিক কাজ। ভোটার তালিকায় নাম তোলা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। গোটা বিষয়টা একটু ভাল ভাবে দেখুন।!”

অবশ্যই পড়ুন: গ্যারান্টি ছাড়াই মিলবে ব্যবসার জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ! কেন্দ্রের প্রকল্প এবার বাংলায়

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ এও জানায়, “ট্রাইবুন্যালে ভোটাধিকার নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষকে সশরীরে হাজির হতে বলা হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সশরীরে উপস্থিত হওয়াটা কি সবার পক্ষে সম্ভব? অনলাইনে হাজিরার কোনও ব্যবস্থা নেই?” আজ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনও বক্তব্য থাকলে আদালতকে তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সাথে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।