সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জনগণনার (Census) কাজ। ইতিমধ্যেই ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সেলফ এনুমারেশন সম্পন্ন করেছেন সাধারণ মানুষ। ১৬ আগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন আধিকারিকরা। তবে এবার জনগণনা নিয়েই শিক্ষকদের পক্ষে বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আসলে জনগণনার কাজে বেশিরভাগ স্কুলের শিক্ষকদেরকেই নিয়োগ করা হয়েছিল। এতে স্কুলের পঠনপাঠনে ঘাটতি থেকে শুরু করে তাঁদের উপরেও পড়ছিল বাড়তি চাপ। এবার তা নিয়েই বড় কথা শোনাল হাইকোর্ট।
জনগণনা নিয়ে বড় নির্দেশ আদালতের
আসলে রাজ্য সরকার সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের কর্মদিবসের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনগুলোতেও জনগণনার কাজে নিযুক্ত করবে বলে জানিয়েছিল। তবে এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতে হল সরকারকে। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্কুল চলাকালীন বা স্বাভাবিক কর্মদিবসের মধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে জনগণনার কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ছুটির দিনগুলি অর্থাৎ শনিবার, রবিবার জনগণনার ডিউটি দেওয়া যাবে না। সেই কারণেই এবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
আসলে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করা হয়। তবে শুনানিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থানের পার্থক্য থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় আদালত। রাজ্য সরকার যুক্তি দিয়েছিল, নিয়মিত পঠনপাঠন এবং স্কুলের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে শনি এবং রবিবার এই কাজের জন্য শিক্ষকদের নিয়োগ করা হবে। তবে কেন্দ্র জানিয়েছিল, শিক্ষকদের স্কুল চলাকালীন সপ্তাহের সাধারণ কর্মদিবসের মধ্যেই সেনসাসের কাজ করা উচিত। রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিপরীতধর্মী অবস্থানের কারণেই আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কর্মদিবসের মধ্যেই হবে জনগণনার কাজ। সেই কারণেই আগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করেছে রাজ্য প্রশাসনে।
আরও পড়ুন: ৬৫% ডিএ মেটানোর দাবি করেছিল সরকার, এবার বড় পদক্ষেপ শিক্ষক সংগঠনের
আসলে বিকাশ ভবন থেকে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে জানানো হয়েছিল যে, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁদের পঠনপাঠনে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরকে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ছুটির দিনগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট জারি করা হয়েছিল এই বিজ্ঞপ্তি। তবে আপাতত হাইকোর্টের রায়ে ছুটির দিনগুলোতে স্বস্তি পেয়েছেন শিক্ষকরা।










