শ্মশানে বেআইনিভাবে অভয়ার দাহকার্য, নির্মল ঘোষদের বিরুদ্ধে FIR-র নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

RG Kar Case

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরজি করের সেই নৃশংস ডাক্তারি পড়ুয়া খুন এবং ধর্ষণের ঘটনার আজ দুই বছর (RG Kar Case)। এখনও পর্যন্ত বিচার পাননি অভয়ার মা। তবে রাজ্যে সরকারের পালাবদল হতে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রত্না দেবনাথ। আর সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরাট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। তিনি জানান, মরদেহ দাহ করার ঘটনাতেও হয়েছিল অনিয়ম। সেই কারণে এবার পৃথক মামলা দায়ের করার ব্যবস্থা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরজি কর কাণ্ডে নয়া মোড়

পানিহাটিতে আজ অভয়ার মা রত্না দেবনাথের উদ্যোগে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখান উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি জানান, রত্না দেবনাথের আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় সম্পূর্ণ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে নির্যাতিতার শবদাহ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আইনি গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে রাজ্য পুলিশের আওতায় প্রত্যেকটি এলাকায় পৃথক মামলা দায়ের করে জড়িতদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের দিন ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে অভয়ার মৃতদেহ বেআইনিভাবে দাহ করা হয়েছিল। দাহকার্যের সিরিয়াল ৩ নম্বরে ছিল। কিন্তু রাতারাতি সেই সিরিয়াল বদলে ১ নম্বরে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি শ্মশানের নির্ধারিত খরচ অভয়ার পরিবারের লোক দেয়নি। এমনকি পরিবারের কোনও নিকট আত্মীয়র বাধ্যতামূলক সাক্ষর গ্রহণ করা হয়নি। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের পিছনে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখার্জী রয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই এদিন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে মঞ্চ থেকে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: “দোষ থাকতে পারে, তাই বলে জুতো-কাদা ছুঁড়বেন?” মমতার উপর হামলায় ক্ষুব্ধ অগ্নিমিত্রা

এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মাননীয়া রত্না দেবনাথ সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য আর্জি জানিয়ে আমাকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির উপর ভিত্তি করেই নতুন বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, এবং পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনিয়মের অংশে সিবিআই তদন্তের সুযোগ নেই। সেই কারণে রাজ্য পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। এমনকি ১৪ আগস্টের রাতে হাসপাতালে পরিকল্পিত ভাঙচুর আর আর্থিক দুর্নীতি নিয়েও চলছে তদন্ত।