বিএসকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে CID, বন্ধ হল কর্মীদের বেতনও

Published:

Bangla Sahayata Kendra

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠল বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে (Bangla Sahayata Kendra)। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তে নামল সিআইডি (CID West Bengal)। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠেই চলেছে। বাদ যায়নি অন্যান্য সরকারি বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া ক্ষেত্রেও। তবে এবার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, যেসব জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করছেন, সেখানে ঝাড়াইবাছাই করা হবে। এমতাবস্থায় প্রশাসনের নজরে এল বাংলা সহায়তা কেন্দ্র।

তদন্তের ভার দেওয়া হল সিআইডিকে

বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিতে কর্মীদের নিয়োগ-পদ্ধতি নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরে উঠছে প্রশ্ন। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আসলে, বিগত তৃণমূল আমলে অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি পদ্ধতিতে নিয়োগ হয়েছিল। তাই এক্ষেত্রেও নিয়োগ পদ্ধতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়া বিজেপি সরকার। আপাতত এই তদন্তের জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডি-কে। এদিকে এই নিয়োগ জটলার মাঝে আটকে রয়েছে কর্মীদের বেতন। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই এই বিভাগে কর্মীদের বেতন নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। মে মাসের বেতন পেলেও এখনও আর বেতন ঢোকেনি বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

বেতন বন্ধ কর্মীদের

গত মাসে কিছু জেলা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন দিয়েছিল। যদিও সেটি পরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে প্রশাসনের তরফে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় জুলাই মাসে সেই বেতন দেওয়া যায়নি বলে খবর। মনে করা হচ্ছে, সিআইডির তদন্তের অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা পড়া এবং তা খতিয়ে দেখার পরেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে নবান্ন। আপাতত কারও বেতন ছাড়া হয়নি অনুমোদন না থাকার কারণে। এই মর্মে বার্তা দেওয়া হয়েছে জেলা-কর্তাদেরও। এইমুহুর্তে রাজ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলা সহায়তা কেন্দ্র আছে। অন্তত দু’জন করে ডিইও কাজ করেন। একেকজন ডিইও ১৬ হাজার টাকা করে বেতন পান। বছরে ৫০০ টাকা করে বেতনবৃদ্ধিও হয়।

আরও পড়ুন: মমতার ‘বাংলার বাড়ি’ নাম বদলে হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজই ঢুকবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

পূর্বতন সরকারের আমলে আরও ১৪৬১টি নতুন বিএসকে অনুমোদিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য কম্পিউটার-সহ সবকিছু প্রস্তুতি হলেও, নিয়োগ হয়নি সেগুলিতে। এখন সব মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার ডিইও কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বেতন একজনও পাননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্দেশে বিএসকে চালু করেছিল। সরকারি সব ধরনের পরিষেবাগুলিতে আবেদন করা, স্কুল-কলেজের ভর্তি, বিদ্যুতের বিল, রেজিস্ট্রেশন-মিউটেশন-সহ একাধিক কাজ নিখরচায় করানো হত এই বিএসকেগুলির মাধ্যমে। এখন দেখার এই বিভাগে কোন বড় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে।