ভাসছে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিদ্যুৎহীন ৩২ হাজার বাড়ি! এগিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari on Purba Medinipur Waterlogging

অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরে কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থা। বিগত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বুধবারও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। পাশাপাশি, ক্ষেতে জল জমে যাওয়ায় ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই জলমগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং পরিস্থিতি শোধরাতে তিনি স্বয়ং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিয়েছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের দুর্গতদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ পদক্ষেপ

মঙ্গলবার হলদিয়া ভবনে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পূর্ব মেদিনীপুরের বিশাল এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে বহু মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সাথেই তিনি জানান যে, অনেক মানুষই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকেও ওই জেলায় পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অনলাইন গেম খেলেই ভাঙল সংসার, ১৯ বছরের যুবকের প্রেমে ঘরছাড়া একই বাড়ির ৩ গৃহবধূ

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বিষয়ে তিনি সবার সঙ্গে আলোচনা বলেছি। এখনও ৩২,০০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছানো যায়নি। এখনও প্রায় ১৫,০০০ মানুষ ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন, বাড়ি ফিরতে পারেননি। বিশেষ করে সবং ও নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে ১৫,০০০ ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হলদিয়া ভবনের এই প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, হলদিয়া মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক এবং হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

আরও পড়ুন: এবার শিয়ালদা থেকে ভারতের শেষ সীমান্ত অবধি চলবে বন্দে ভারত? প্রস্তুতি রেলের

সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখার জন্য কৃষি, সেচ, মৎস্য, উদ্যানপালন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন যে যাদের মাটির বাড়িগুলি দুর্যোগের কারণে ভেঙে পড়েছে, তাদের ২০,০০০ টাকা সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও তিনি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলিকে বাড়ি ফেরার সময় অন্তত ৫ দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার নির্দেশ দেন।