অনুপ্রবেশ ঠেকাতে BSF-কে জমি দান কোচবিহারের বাসিন্দাদের

Published:

Cooch Behar

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত (India Bangladesh Border) সুরক্ষিত রাখতে এবার BSF-কে জমি হস্তান্তরের জন্য এগিয়ে এল কোচবিহারের (Cooch Behar) স্থানীয়রা। জানা গিয়েছে, সীমান্ত বেড়া নির্মাণের সুবিধার্থে স্বেচ্ছায় ৩৩ ডেসিমেল জমি দান করেছেন তাঁরা। ক্ষমতার পালাবদল হতেই বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে BSF-এর আউটপোস্ট নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক একর জমি প্রদান করা হয়ে গিয়েছে। আর এবার পাশে দাঁড়াল কোচবিহারবাসী।

কোচবিহার থেকে দেওয়া হল জমি

রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের সাতগ্রাম মানবাড়ি এলাকার তিন বাসিন্দা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বহু প্রতীক্ষিত সীমান্ত বেড়া নির্মাণের সুবিধার্থে নিজেদের ইচ্ছায় প্রায় ৩৩ ডেসিমেল জমি দান করেছেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এসে এখানে চুরি, ডাকাতি করত, ধান, সবজি কেটে নিয়ে যেত। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হত, সেক্ষেত্রে যদি এবার কাঁটাতার লাগানো হয় তাহলে অনেক সুবিধা হবে। স্থানীয়দের কথায়, শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, গরু পাচার, জাল ওষুধ, মাদক পাচারকারীতে ভরে গিয়েছিল এলাকা।

কী বলছেন জমি প্রদানকারী?

জমি প্রদানকারী বিকাশ রায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গ্রামের কল্যাণ ও দেশের নিরাপত্তার জন্য জমিটি দান করেছেন এবং এই বেড়া অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার হওয়া থেকে বিরত রাখবে। গ্রাম ও দেশ সুরক্ষিত হবে। উল্লেখ্য, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে প্রথম থেকেই তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বন্দ্ব ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মমতা সরকার কিছুতেই কাঁটাতার লাগানোর জন্য জমি হস্তান্তর করছিল না BSF-কে। তাই এবার বিজেপি আসতেই খেলা ঘুরে গেল।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসাথীতে মিলত না, আয়ুষ্মান কার্ডে ফ্রিতে পাবেন এসব বহুমূল্য চিকিৎসা

প্রসঙ্গত, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা BSF-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। কোন জেলা থেকে কতটা জমি হস্তান্তর করা হয়েছে সেই নিয়ে একটি তালিকাও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে মুর্শিদাবাদে, ৩৮.৮০৫ একর জমি অন্যদিকে তালিকাও রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে রাজ্য সরকার তৎপর হয়ে উঠেছে।