প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Incident) অশান্তিতে উস্কানি, প্ররোচনা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি (Lahek Ali Arrested)। গতকাল, ১২ জুলাই, রবিবার, রাতে তাঁকে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় তিনিই নাকি ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, আজ মহকুমা আদালতে পেশ করা হতে পারে তাঁকে। অন্যদিকে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বামেরা। মুখ খুললেন বর্ষীয়ান বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
গ্রেপ্তার লাহেক আলি
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত রবিবার ৫ জুলাই, বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের মতো নৃশংস ন্যাক্কারজনক ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। ঘটনার প্রতিবাদে রীতিমত ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয়রা, আর সেই সময় নাকি এলাকায় ছিলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। পুলিশের অভিযোগ তিনি নাকি এই ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও বেগতিক করে তুলেছিল। আর সেই কারণে গতকাল, রবিবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আজ, তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ। এদিকে তাঁর গ্রেফতারিতে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বামেরা।
একাধিক মামলা দায়ের লাহেক আলির বিরুদ্ধে
সূত্রের খবর, বারুইপুরকাণ্ডে অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অপরাধে ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে BNS- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, দাঙ্গা, উস্কানি দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, তাঁদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা প্রভৃতি কারণে মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে লাহেককে। এর বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব। আদালতে গিয়েই জয় ছিনিয়ে আনব।”
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষ রক্ষা, অবশেষে গ্রেফতার নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর
প্রসঙ্গত, বারুইপুর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে ছিলেন যে, “ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং পরিচয় জেনে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত কিছু ব্যক্তি, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনও সংগঠিত শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে। জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এমনকি ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তদের কঠোর সাজার পাশাপাশি গণপিটুনি এবং গোলমালে ইন্ধন জোগানোর ক্ষেত্রেও কঠোর সাজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত অশান্তির ঘটনার মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।










