প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের বিপর্যয়ের মুখে পড়ল উত্তরবঙ্গ (North Bengal)! প্রবল বৃষ্টির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ১১০ নং জাতীয় সড়ক। এমনকি রাতভর প্রবল বৃষ্টির জেরে, দুধিয়া সেতু ভেঙে (Dudhia Bridge Collapsed) পড়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল থেকেই উত্তরের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি (Heavy Rain) শুরু হয়েছে। যার ফলে একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে, গাছও ভেঙে পড়েছে বহু জায়গায়। ধীরে ধীরে সেখানকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
ভাঙল অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপরে তৈরি অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু ফের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত বছর দুধিয়ায় লোহার সেতুটি ভেঙে গিয়েছিল প্রবল বৃষ্টির কারণে, সেইসময় জনসাধারণের এতটা সমস্যা হয়েছিল যে বাধ্য হয়েই এর পরেই পাশে একটি অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু যাতায়তের জন্য বানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সেতুও গতকাল রাতভর বৃষ্টির জেরে ভেঙে যাওয়ায় ফের দুধিয়া হয়ে শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। এদিকে নদীতে জল বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
The temporary Hume pipe bridge constructed after the October 2025 heavy rain at Dudhey has collapsed.
According to reports road connectivity between Siliguri and Mirik via Dudhia have been stopped via Dudhey. pic.twitter.com/icDsYCQIRW
— Abir Ghoshal (@abirghoshal) June 19, 2026
দার্জিলিং- শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের জেরে শুধু অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু ভেঙে গিয়েছে তা নয়, গতকাল থেকেই ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে NH10। যার ফলে শিলিগুড়ি-গ্যাংটক সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ১১০ নং জাতীয় সড়কও। মহানদীর কাছে খারসাং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তিন লেনের সড়ক ভেঙে গিয়েছে। যার দরুন, দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এদিকে ঘুরতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন পর্যটকেরা। তবে আপাতত প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নদীর স্রোতের বেগ কমলে দুধিয়ার ডাইভারশন মেরামতিতে ফের হাত দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ খুলতেই LPG নিয়ে দারুণ সুখবর শোনাল সরকার, কমল গ্যাসের ব্যাকলগ
বাড়বে দুর্যোগ
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে আড়াই ঘণ্টায় মিরিকে ৬৩ মিলিমিটার এবং কার্শিয়াংয়ে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে একই সময়ে বৃষ্টি হয়েছে ২৪৬ মিলিমিটার। ফলে শিলিগুড়িতে মহানন্দা-সহ সব ছোট-বড় নদীতে বাড়ছে জলস্তর। এমনকি মহানন্দায় বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে জল বইছে। এদিকে এদিকে, সপ্তাহভর উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে, এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।










