সহেলি মিত্র, কলকাতা: রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকার করার দিন শেষ। এবার এই নিয়ে বিরাট ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খোলার পর কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে যে এলপিজির বকেয়া বা ব্যাকলগ (LPG backlog) কমে ৩.১ দিনে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
LPG নিয়ে সুখবর শোনাল কেন্দ্রীয় সরকার
খুচরা আউটলেটগুলিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা। এর অর্থ হলো, দেশের কোনো এজেন্সিতে আর গ্যাসের ঘাটতি নেই। তিনি আরও বলেন যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে খুচরা মূল্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সুজাতা শর্মা বলেন, “প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারে এখনও লোকসানের পরিমাণ ৭০০ টাকা। প্রতি লিটার ডিজেলে লোকসানের পরিমাণ ২৭ টাকা, আর প্রতি লিটার পেট্রোলে লোকসানের পরিমাণ ৩ টাকা।”
Operations at retail outlets and distributorships continue normally. The LPG backlog has reduced to 3.1 days.
22,945 tonnes of commercial #LPG and 1.98 lakh 5-kg cylinders were sold.
Since March, 10.02 lakh #PNG connections have been gasified, while additional infrastructure… pic.twitter.com/cc45tuwtee
— PIB India (@PIB_India) June 18, 2026
উল্লেখ্য যে ভারতে পেট্রোল-ডিজেল এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেশ কয়েকবার বাড়ানো সত্ত্বেও সরকারি তেল কোম্পানিগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান করছে। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫%, এলএনজি-র ৫০% এবং এলপিজি-র ৬০% বিশ্ব বাজার থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালী থেকে আসত। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১০৮ দিন ধরে বিশ্ব বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪৫% ডিসকাউন্টে স্মার্টটিভি থেকে অনেক কিছু, Amazon Prime Day Sale-র দিনক্ষণ ঘোষণা
প্রতিদিন অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৫২ কোটি টাকা
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় যুদ্ধের সময় অপরিশোধিত তেলের বর্ধিত মূল্যের বোঝা যাতে সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার প্রথম ৭৮ দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলিকে প্রায় ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এর মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক হ্রাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে ভারত সরকার আকাশছোঁয়া আন্তর্জাতিক মূল্যের সময়ে তেল সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান ক্ষতি কমাতে কর রাজস্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।










