বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যের যোগ্য পুজো কমিটিগুলিকে (Durga Puja) 1 লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি (Government Of West Bengal) শর্তে আটকে যাচ্ছে একাধিক পুজো কমিটি। যাদের অর্থের আদতেই প্রয়োজন, সেই সব পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন জানাতে বলার পাশাপাশি আবেদনকারী কমিটির নামে থাকা নির্দিষ্ট প্যান কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে নবান্নের তরফে। সেই তথ্য জমা না দিলে অনুদানের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারবে না পুলিশও। এক কথায়, অনুদানের নতুন নিয়ম নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পুজো কমিটিগুলি।
সরকারের নতুন নিয়মে চাপে পুজো কমিটিগুলি
পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলিকে শেষবারের মতো 1 লাখ 10 হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কমিটিগুলির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলে ওই কমিটির নির্দিষ্ট পদাধিকারীর প্যান নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে মিলতো অনুদান। তবে এবার সেই নিয়ম বদলাচ্ছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনুদানের অর্থ পাঠানো হবে শুধুমাত্র পুজো কমিটির নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই। সেজন্য প্রয়োজন কমিটির সাথে যুক্ত বা কমিটির নামে থাকা প্যান কার্ড।
সম্প্রতি মহেশতলা থানা থেকে পুজোর অনুদানের ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নিয়মের কথা জানতে পারে ওই অঞ্চলের কয়েকটি পুজো কমিটি। বিশেষ করে বেগরখাল জোড়াবেড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো সম্পূর্ণরূপে অনুদানের উপর নির্ভরশীল। এদিকে এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে কমিটির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে আলাদা প্যান কার্ড তৈরি করে সেই তথ্য জমা দেওয়াটা যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির পক্ষে।
এ প্রসঙ্গে ওই পুজো কমিটির সভাপতি প্রভাত চক্রবর্তী জানান, “আমাদের পুজো সম্পূর্ণরূপে সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল। পুজোর অনুমতির আবেদন করতে গিয়ে মহেশতলা থানা থেকে আমরা এই শর্তের কথা জানতে পারি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় এই ধরনের শর্তের উল্লেখ ছিল না। তাই আমাদের কাছে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট না থাকায় সমস্যায় পড়লাম। এখন এত অল্প সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করে কমিটির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলাটা সম্ভব নয়।”
আরও পড়ুন: শত্রুদের যম! হাজার কিমি পাল্লার KAL ড্রোনের পরীক্ষায় সফল ভারত
একই রকম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে রাজ্যের একাধিক পুজো কমিটিকে। বিগত বছরগুলিতে কোনওমতে রেজিস্ট্রেশন করিয়েই কয়েক মাসের মধ্যে পুজোর সরকারি অনুদান পেয়েছে এমন ক্লাবের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাছাড়াও তৃণমূল আমলে পুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে নয় ছয় করারও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অনুদানের লোভে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কয়েকটি পুজো কমিটির বিরুদ্ধেও অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আর সেসব কারণে দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কড়া বর্তমান সরকার। যে বিষয়টিকে সমর্থন করছে অন্যান্য একাধিক পুজো কমিটি। তবে ঠিক পুজোর প্রাক্কালে সরকারি নতুন নিয়ম যেন গলার ফাঁস হয়ে উঠেছে রাজ্যে একাংশের পুজো কমিটির জন্য!










