বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্য সরকার বদল হতেই নিরাপত্তায় ভাটা পড়েছে তৃণমূলের (Trinamool Congress) নেতা-কর্মীদের। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়তি নিরাপত্তা কমিয়েছে রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকেও সরানো হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা। এছাড়াও তৃণমূলের এমন একাধিক নেতা-কর্মী রয়েছেন যাঁরা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক কম নিরাপত্তা পান। এমতাবস্থায়, এবার বীরভূমের 5 তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিল রাজ্য। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, মমতার নির্দেশ অমান্য করে ঋতব্রতকে সমর্থনকারী জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন এই 5 জনই।
কাঁদের নিরাপত্তা বাড়াল রাজ্য সরকার?
ক্ষমতা হারাতেই কার্যত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিলেন তৃণমূলের 58 জন জয়ী বিধায়ক। তাঁদের সমর্থন পেয়েই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন ঋতব্রত। বলাই বাহুল্য, উলুবেড়িয়ার বিধায়ককে সমর্থনকারী বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন বীরভূমের 5 জন বিধায়ক। তালিকায় আছেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক কাজল শেখ, বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ, নানুরের বিধায়ক বিধান মাঝি এবং মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেন।
জানা যাচ্ছে, উল্লিখিত এই 5 বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, কাজলের নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা তিনজন থেকে বাড়িয়ে 5 জন করা হয়েছে। একইভাবে চন্দ্রনাথের নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা দুজন থেকে বেড়ে হয়েছে চারজন। পাশাপাশি বাকিদের আগের তুলনায় কয়েকজন করে নিরাপত্তারক্ষী বেড়েছে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে ঠিক কোন কারণে হঠাৎ নব তৃণমূলের বিধায়কদের নিরাপত্তা বাড়াল রাজ্য সরকার? এ প্রসঙ্গে অবশ্য প্রশাসনের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ওয়াকিবহালমহল বলছে, আচমকা তৃণমূল ভাগ হয়ে যেতেই 5 বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
অবশ্যই পড়ুন: সাড়া দেয়নি প্রশাসন, গাঁটের কড়ি খরচা করে পড়ুয়াদের জন্য রাস্তা বানালেন প্রধান শিক্ষক
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালা বদল হতেই বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল। সেই তালিকায় চন্দ্রনাথ, কাজল শেখদের সাথে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলও। বর্তমানে বাকি দুজনের নিরাপত্তাররক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হলেও অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, তৃণমূলের ঘোর পরাজয়ের পর এই মুহূর্তে নাকি কোনও রকম নিরাপত্তাই পাচ্ছেন না বীরভূমের কেষ্ট।










